kalerkantho


রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে বিচারিক এখতিয়ার

আইসিসির ভূমিকা এক সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা নিপীড়ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নিজেই এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। এর পরও মিয়ানমারের ওপর আইসিসি তার বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে কি না সে বিষয়ে আগামী বুধবার হেগে রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি সুরাহার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন তা বিশ্বের জন্য বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশেষ করে, আদালত মিয়ানমারের ওপর বিচারিক অধিকারের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে তা ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত হবে। এমনকি বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও আদালতের সদস্য না হওয়ায় বিচার এড়িয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর আইসিসি বিচারিক এখতিয়ার পাবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যার মতো ইস্যুতে বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসিতে পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা তাদের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিচারিক উদ্যোগকে সমর্থন করে না। এর ফলে গুরুতর অভিযোগের পরও ওই দেশগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় না। আবার অনেক রাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ার কারণে ওই আদালত সেখানে বিচারিক এখতিয়ার খাটাতে পারেন না। জাতিসংঘ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের জোরালো শঙ্কা প্রকাশ করলেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্যের অভাবে এখনো এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়নি।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র ও আইসিসি সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আদালতকে বিচারিক এখতিয়ার প্রশ্নে লিখিতভাবে অভিমত জানিয়েছে। বাংলাদেশ প্রয়োজনে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত আইসিসিকে দেবে। আইসিসি মিয়ানমারের ওপর বিচারিক এখতিয়ার প্রশ্নে কী সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয়ে বাংলাদেশের নিবিড় দৃষ্টি থাকবে। কারণ বাংলাদেশ কার্যত এই ইস্যুটির অংশ হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর মিয়ানমারের ওপর আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আবেদন করেছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আইসিসির কাছে তোলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ভেবে বাংলাদেশ আইসিসিতে অভিমত পাঠিয়েছে। এখন আইসিসির সিদ্ধান্ত দেখার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। তবে আইসিসি যদি মিয়ানমারের ওপর বিচারিক এখতিয়ার প্রশ্নে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা হবে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, আইসিসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে এর প্রভাব হবে ব্যাপক। পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। কারণ গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে বিচার প্রশ্নে আইসিসিকে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

ওই কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি যদি মিয়ানমারের ওপর বিচারিক এখতিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় তবে আগামীতে আরো কয়েকটি দেশের বিষয়েও ওই আদালতকে বিচারিক উদ্যোগ নিতে হতে পারে।

 



মন্তব্য