kalerkantho


ইউপি চেয়ারম্যানের ‘চালবাজি’

৩০৫ জনকে গাঁটের টাকায় চাল দিলেন বিক্ষুব্ধ নারী সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ভিজিএফ কার্ডধারী দুস্থদের ঈদ উপলক্ষে ১০ কেজি করে চাল দিচ্ছে সরকারের ত্রাণ বিভাগ। কিন্তু কিশোরগঞ্জের নিকলীর জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ১০ কেজির স্থলে পাঁচ কেজি চাল বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে এক নারী ইউপি সদস্য নিজেই খোলাবাজার থেকে চাল কিনে ৩০৫ জন ভিজিএফ কার্ডধারী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে বিতরণ করলেন। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার দুই দিনে তিনি এ চাল বিতরণ করেন। আলোচিত এই নারী হলেন জারইতলা ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য জেসমিন আরা বিউটি।

জানা যায়, এ ‘চালবাজি’র বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রধান কর্তাব্যক্তিকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়। কিন্তু প্রশাসন তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম মানিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরেজমিন জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে তালিকাভুক্ত এক হাজার ৩২১ জন ভিজিএফ কার্ডধারী নারী-পুরুষ স্লিপ ও আইডি কার্ড নিয়ে যথারীতি আঠারবাড়িয়ায় অবস্থিত জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদে যান। চেয়ারম্যানের লোকেরা তাদের ছোট প্লাস্টিকের বালতি দিয়ে পাঁচ-ছয় কেজি পরিমাণ চাল গছিয়ে দেয়।

কামালপুরের হেলালউদ্দিন, পুড্ডার কুলসুম বেগম, ধারীশ্বর গ্রামের জ্ঞান বানুসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা জানান, চাল কম দিতে দেখে অনেকেই বিতরণকারীদের কাছে জানতে চেয়েছে, ‘১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা, আপনারা কেন পাঁচ কেজি দিচ্ছেন?’ প্রশ্ন শুনে চেয়ারম্যানের লোকেরা ক্ষুব্ধ হয়। পরে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানালে তিনিও ‘নিলে নেও, না নিলে বাদ দেও’ বলে বিদায় দেন লোকজনকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিজিএফ কার্ডধারীরা জানায়, চাল কম দিতে দেখে পরিষদে উপস্থিত নারী ইউপি সদস্য জেসমিন আরা বিউটি চাল বিতরণকারীদের কাছে জবাব চান। তাঁদের মধ্যে চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ দুই ইউপি সদস্য, তাঁর এক আত্মীয় ও এক চৌকিদার ছিলেন। তাঁরা সবাই জেসমিনের ওপর খেপে যান এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ও ঠ্যালা-ধাক্কা দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেন।

এরপরই জেসমিন তাঁর ওয়ার্ডের দুস্থদের নিয়ে ইউনিয়নের পুড্ডা বাজারে যান। সেখানে জেসমিন আরা চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার চেয়ে বক্তব্য দেন। পরে ওই বাজারের শামসুদ্দিনের দোকান থেকে নিজের টাকায় প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল কিনে দেন।

জেসমিন আরা বিউটি বলেন, দুস্থদের কথা বিবেচনা করে নিজেই ৩০৫ জনকে চাল কিনে দিয়েছেন।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইয়াহ ইয়া খান বলেন, ‘ইউপি সদস্য জেসমিন আমাকে ঘটনাটি জানালে আমি তাঁকে পরিষদ থেকে বের না হয়ে সেখানে অবস্থান করেই এর সমাধান বের করতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি বেরিয়ে গেছেন। আমাকে আর কিছু জানাননি। ভেবেছি মীমাংসা হয়ে গেছে, তাই ঘটনাস্থলে আর যাওয়া হয়নি।’



মন্তব্য