kalerkantho


বৃহত্তম ঈদ জামাত

শোলাকিয়ার নিরাপত্তায় এবার উড়বে ড্রোন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের দিন রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার পরও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত। এবার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলছে ঈদ জামাতের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এর অংশ হিসেবে এবার ঈদ জামাত ঘিরে ময়দান ও সংশ্লিষ্ট অংশের আকাশে ওড়ানো হবে ড্রোন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ।

শোলাকিয়ায় এবার ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। জামাতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার আক্তার জামিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, এবার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। মাঠে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। শোলাকিয়া মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। প্রথমবারের মতো নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ ঈদ জামাত আয়োজন। সে জন্য প্রয়োজনীয় সবই করা হচ্ছে।’ তিনি এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মুসল্লিরা কেবল জায়নামাজ নিয়ে মাঠে প্রবেশ করবে।

এদিকে শোলাকিয়া মাঠকে নামাজের উপযোগী করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শোলাকিয়ার জামাতকে সফল করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জামাতের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখতে জেলা প্রশাসকসহ র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তারা পরিদর্শন করছেন ঈদগাহ এলাকা।

ইতিমধ্যে মাঠসহ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোশাকে নজরদারি করবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এ ছাড়া শহরসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে থাকছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। নামাজ শুরুর আগে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পুরো মাঠ তল্লাশি করা হবে। শোলাকিয়া মাঠ ও শহরের যত অলিগলি আছে, সবখানে বসানো হবে নিরাপত্তা চৌকি। তিনি বলেন, আশা করি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় লোকজনের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভীতি থাকবে না।

মাঠের সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ মাঠের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। মুসল্লিদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে কয়েকটি নতুন রাস্তা ও একটি সেতু। দূরদূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ইতিমধ্যে মাঠে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নসহ সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।


মন্তব্য