kalerkantho


ভারতের অবস্থান নিয়ে বিবিসি

হাসিনাতেই আস্থা, তবে সম্পর্ক বিএনপির সঙ্গেও

বিশেষ প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি জোরালো আস্থা থাকলেও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিকল্প শক্তি হিসেবে বিএনপির সঙ্গেও ভারতের যোগাযোগ বাড়ছে। বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর দলটিকে নিয়ে ভারতের ভাবনা বিষয়ে বিবিসি বাংলার এক বিশ্নেষণে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষণটিতে আরো বলা হয়, বিএনপিকে নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি নতুন আগ্রহ যে দেখা যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই মনোভাব কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক সেটি নিয়ে হয়তো প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে বিএনপি যে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি এবং তারা যে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে ও বাংলাদেশে আবারও সরকার গঠন করতে পারে—এই বিবেচনাগুলো ভারতের নীতিনির্ধারকদের মাথায় আছে। ভারতের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলে গতকাল রবিবার বিবিসি এমন ধারণা পেয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ধারণা যে ভারতের কাছে আওয়ামী লীগ পছন্দের দল এবং বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসুক এটি ভারত চায় না। তবে এ ধারণাটি পুরোপুরি নাকচ করেছেন বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তিনি বলেন, ভারতের ‘নেইবারহুড পলিসি’ যে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বাংলাদেশকে তাঁরা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দেন। তিনি স্বীকার করছেন যে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে বিরাট উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তিনি একই সঙ্গে এটিও বলছেন যে ভারত বাংলাদেশের যেকোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কথা বলতে প্রস্তুত। তবে তাদের অবশ্যই দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ভারতের নামকরা সাময়িকী আউটলুকের সাবেক উপসম্পাদক এস এন এম আবদি বলেন, এই মুুহূর্তে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো আওয়ামী লীগ সরকারই যেন ক্ষমতায় ফিরে আসে। কিন্তু তিনি আবার এটিও বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কিন্তু একটি বিকল্প দৃশ্যপটের জন্যও তৈরি। তাঁর মতে, সেই বিকল্প দৃশ্যপটের কথা মাথায় রেখে বিএনপি, এরশাদের জাতীয় পার্টি এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও ভারত যোগাযোগ রক্ষা করে।

ভারতীয় প্রভাবশালী সাময়িকী মেইনস্ট্রিম উইকলিতে সম্প্রতি প্রকাশিত ভারতীয় বিশ্লেষক অপরূপা ভট্টাচার্য ও সৌরনি বেজ একটি লেখায় সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বিএনপি নির্বাচনে জেতে ও ক্ষমতায় ফিরে আসে তখন ভারত কী করবে? তাঁদের মতে, শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকলেও ভারতের উচিত হবে না বাংলাদেশের ক্ষমতার লড়াইয়ে খালেদা জিয়া বা বিএনপিকে এখনই ‘খরচের খাতায়’ লিখে ফেলা।

বিএনপির প্রতিনিধিদল যে ভারতে গেছে সেটি কতটা বিএনপির আগ্রহে আর কতটা ভারতের উদ্যোগে সেটি স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে এটি যে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ও যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই করা তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এ বিষয়ে খোঁজ রাখেন এমন একজন ভারতীয় সাংবাদিক বলেন, কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে গিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে। তখন কিন্তু বিএনপি আমন্ত্রণ পায়নি। তাই এ সফরকে তিনি ভারসাম্য সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ভারতের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বাড়ছে। আবার বিএনপিও ভারতবিরোধী কথাবার্তা আগের চেয়ে অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে, বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক ভারত সফর নয়াদিল্লির আমন্ত্রণে বা সরকারি কোনো সফর ছিল না। তবে অন্য কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আমন্ত্রণ না জানালেও এ সফরে ভারতের সায় ছিল। কারণ রাজনীতিবিদদের ভিসা দেওয়ার সময়ই ধারণা করা যায় তাঁরা কী কাজে যাচ্ছেন।

 



মন্তব্য