kalerkantho


নিম্নচাপে সাগর উত্তাল বৃষ্টি ঝরবে আজও

কক্সবাজারে এক জেলের মৃত্যু নৌযান চলাচল ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে। রাজধানীসহ সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে গতকাল রবিবার কক্সবাজার উপকূলে কমপক্ষে ১৫টি মাছ ধরার নৌকা ডুবে গেছে। নৌকাডুবিতে একজন জেলে মারা গেছে এবং আরো শতাধিক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২০ জেলে। 

গত শুক্রবার সকালে সাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে নিম্নচাপে রূপ নিয়ে গতকাল সন্দ্বীপ ও তত্সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করায় সোমবার মধ্যরাতে এর উপকূল অতিক্রম করার কথা। নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পটুয়াখালীতে অভ্যন্তরীণ রুটে ৬৫ ফুটের নিচে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। নিম্নচাপের কারণে আজ সোমবার সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এসব তথ্য দিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তা আরিফ হোসেন।

আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি মধ্যরাতে সীতাকুণ্ডের কাছ দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ থাকছে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 

জ্যৈষ্ঠর বিদায়বেলায় দেশে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছিল তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি ঝড়ায়। রোদের প্রখরতা কিছুটা কমেছে। স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। গতকাল ঢাকায় ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে ১৭৩ মিলিমিটার। অতি বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাঙামাটিতে ৫০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ৪৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

গতকাল সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুরে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি আর ঢাকায় ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

কক্সবাজারে নৌকা ডুবে জেলের মৃত্যু : কক্সবাজার জেলা মাছ ধরা নৌকা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোসতাক আহমদ জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে গতকাল ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সাগরের সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি মাছ ধরার নৌকা ডুবেছে। নৌকাডুবিতে একজন জেলে মারা গেছে। উদ্ধার করা শতাধিক জেলের মধ্যে ১৩ জনকে আহতাবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২০ জেলে নিখোঁজ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে চলাচলকারী দুটি স্পিডবোটও ডুবেছে। তবে যাত্রীরা সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ঝড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় মারা যাওয়া আবদুস শুক্কুর কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকার অছিউর রহমানের ছেলে। তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

এদিকে গতকালের টানা বর্ষণে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের লম্বাশিয়া, ডি-৪, কিউকিউ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতি ধসে পড়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরেও দুই লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী পাহাড়ধসের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার শহরের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী দেড় লক্ষাধিক বাসিন্দা ঝুঁকিতে আছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, এরই মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভাকেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা : বিকেলে ভারি বর্ষণের পর চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চলে যথারীতি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত মানুষদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী সৈয়দা মিনি পারভিন জানান, গতকাল বিকেল ৪টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার শারমিন আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টি কিছুটা কমে যাওয়ার পর জলাবদ্ধতাও কমে।

 



মন্তব্য