kalerkantho


নাজিরপুর

প্রতারণা মামলায় বরখাস্ত হওয়া মাদরাসা সুপার জেলে

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের নাজিরপুরে দুুর্নীতি ও প্রতারণা মামলায় বরখাস্ত হওয়া মাদরাসা সুপার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রবীর কুমারের আদালতে জামিন চাইতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। প্রসঙ্গত, মান্নান উপজেলার শেখমাটিয়া দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদরাসার সুপার ছিলেন।

জানা যায়, ২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাদরাসাটির সহকারী মৌলভি পদে বাগেরহাটের চিতলমারীর বটতলা গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ খানের ছেলে মো. ইলিয়াছ হোসেনকে গোপনে নিয়োগ দেন মান্নান। তখন একই পদে দায়িত্বে ছিলেন উপজেলার রামভদ্রা গ্রামের মৌলভি মোহাম্মদ এনছান আলীর (মৃত) ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ শেখ। মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে ইলিয়াসকে নিয়োগ দেন মান্নান। পরে ইলিয়াছের বেতন-ভাতার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র দেন। একই বছরের ডিসেম্বরে এমপিওতে ইলিয়াছকে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। বিষয়টি তখন মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইউএনও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নজরে আসে। এ অবস্থায় ইলিয়াছের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে ২০০৬ সালের ২ মে তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মান্নানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া ইলিয়াছের ভুয়া এমপিও বাতিলের জন্য মাউশির কাছে প্রতিবেদন পাঠান ইউএনও। এর ভিত্তিতে ইলিয়াছের ভুয়া এমপিও বাতিল হয়; কিন্তু ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গোপনে ফের ইলিয়াছের বাতিল হওয়া এমপিও বহাল করেন মান্নান। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষক হামিদ বরখাস্ত হওয়া মাদরাসা সুপার মান্নান ও ভুয়া নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। গতকাল এই মামলায় মান্নানের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

 



মন্তব্য