kalerkantho


সবুজবাগে ছিনতাই

বাঁচাতে গিয়ে এবার জীবন দিলেন জুয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বাঁচাতে গিয়ে এবার জীবন দিলেন জুয়েল

রাজধানীর ওয়ারীতে স্কুলশিক্ষিকাকে বাঁচাতে গিয়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র আবু তালহা। ওই ঘটনার ৯ মাস না পেরোতেই গত শনিবার রাতে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় একইভাবে ছিনতাইকারীর ছুরিতে জীবন দিলেন মোহাম্মদ রাহাত মিয়া জুয়েল (২৪)। তিনি শাড়ির দোকানের কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে সবুজবাগের মাদারটেক নতুনপাড়া এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন স্বর্ণাকার হাবিব। তাঁর ব্যাগে ছিল স্বর্ণালংকার। একপর্যায়ে এক ছিনতাইকারী তাঁর ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন জুয়েল ও তাঁর দুই বন্ধু। যাওয়ার সময় তাঁরা হাবিবের চিৎকার শুনতে পান। চিৎকার শুনে ছিনতাইকারীকে ধরার জন্য দৌড়ে যান জুয়েল। কিছু দূরেই ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় ছিনতাইকারী তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গতকাল ভোরে জুয়েল মারা যান। জুয়েলের বাবার নাম বাবুল মিয়া। তিনি একটি সিকিউরিটি কম্পানির সিকিউরিটি সুপারভাইজার। জুয়েলের বাবা বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

জুয়েলের ফুফু রোজী গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, জুয়েল তারাবির নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিল। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। গভীর রাতে আমরা জানতে পারি তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন—তার বন্ধুদের সামনে তাকে একা ছুরিকাঘাত করে একটি লোক পালিয়ে যায় কী করে?

সবুজবাগ থানার ওসি কুদ্দুস ফকির বলেন, ‘ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে।’ তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে জুয়েল ছিলেন তৃতীয়। তাঁর স্ত্রীর নাম সাইমা আকতার। তাঁদের দুই বছরের এক ছেলে আছে।

ডেমরায় বিকাশকর্মী নিহত : এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকায় ছিনতাইকারীর গুলিতে রাশেদুল নামে এক বিকাশকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছে থাকা ৭২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাঁর লাশ মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে রাশেদুলের বড় ভাই ফারুক হোসেন ডেমরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর ভাই তিন মাস আগে বিকাশে চাকরি নেন। পাশাপাশি তিনি ঝিনাইদহের একটি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় একটি মেসে থাকতেন।

 

 



মন্তব্য