kalerkantho


ফরিদপুর ও নলছিটিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ

এক দিনেই হাসপাতালে ৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোয় এবং ঝালকাঠির নলছিটিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৬৬ জন ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডায়রিয়ার প্রকোপের কথা স্বীকার করেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় মেঝে ও বারান্দায় অনেক রোগী রয়েছে। তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স গোলাপী বেগম জানান, ফরিদপুর ছাড়াও রাজবাড়ী, মাগুরা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে। গত এক সপ্তাহে এ হাসপাতালে ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছে ৩০৫ জন।

হাসপাতালে ভর্তি আছেন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মৌলভীর চর এলাকার গৃহবধূ শাহীনূর বেগম (৩৪)। তাঁর স্বামী মো. তোফাজ্জেল জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন তাঁর স্ত্রী। রাতেই স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে স্যালইন দেওয়া হয়েছে।’

সালথা উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আজাদ মোল্লা (২৮) জানান, তিনি সোমবার রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসা নিয়ে শুক্রবার সকালে চলে যান। কিন্তু রাতে তিনি আবার আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘ডাক্তার ঠিকমতো নজর দিচ্ছেন না। শুধু বলেন, সারতে অনেক সময় লাগবে।’

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) গণেশ আগরওয়াল বলেন, সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাসে গরমের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। কয়েক বছর ধরে রোজার সময় রোগীর সংখ্যা একটু বেশি হচ্ছে তৈলাক্ত খাবার খাওয়ায়। তিনি বলেন, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়ার ইউনিট না থাকায় সব রোগী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আশপাশের জেলা থেকেও রোগীরা এসে এখানে ভর্তি হচ্ছে। এ জন্য চাপ বেশি। তিনি বলেন, ১০০ শয্যার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে (ডায়রিয়া) শয্যার সংখ্যা মাত্র ১৮। রোগী বেশি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ডায়রিয়ার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রতিষেধক আছে। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হচ্ছে না।

জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সৈয়দ ওবায়দুর রহমান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যেকোনো খাবার বিশেষ করে তেলসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্যের বিষয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে; তবেই ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তবে এটা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।

এদিকে নলছিটি পৌর এলাকাসহ ১০টি ইউনিয়নে রমজানের শুরু থেকে শতাধিক ডায়রিয়া রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা নিয়েছে আরো শতাধিক রোগী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রাইভেট চিকিৎসকের কক্ষে প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের অভাবে গরিব পরিবারের রোগীরা বিপাকে পড়ছে। বাইরের দোকান থেকে তাদের ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

শনিবার নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী লাইজু (১৯), জহির উদ্দিন (৪৫), মোর্শেদা বেগম (৫০), শাহিনুর বেগম (৩২) লিমন (৭), কহিনুর বেগম (৪০), ইছাহাক (৫০) জানান, খাবার স্যালাইন ও ট্যাবলেট ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে সরবরাহ করা হয় না। তাঁরা দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ওষুধ আইভি স্যালাইন নেই হাসপাতালে।

নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আওছাফুল ইসলাম রাসেল জানান, রমজানের শুরু থেকে প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভেজাল খাবার খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন। হাসপাতালে আইভি স্যালাইন সংকট রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে ১২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে কারো অবস্থা খারাপ দেখলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের অবস্থা খুব একটা ভালো না থাকায় রোগী সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে।



মন্তব্য