kalerkantho


জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী

নজরুলের লেখা মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছে : রাষ্ট্রপতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



নজরুলের লেখা মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছে : রাষ্ট্রপতি

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১১৯তম জন্মজয়ন্তীতে গতকাল তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবি পরিবারের সদস্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বাংলা সাহিত্য-সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর কালজয়ী প্রতিভা ও জীবন দর্শন, মানবিক মূল্যবোধের স্ফুরণ, সমৃদ্ধিশালী লেখনী বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, আমাদের জাতীয় সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নজরুলের লেখনী আমাদের উজ্জীবিত করেছে। তাঁর জাতীয়তাবোধ বাঙালির অনন্ত প্রেরণার উৎস।’ গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপ্রতি এসব কথা বলেন।

যথাযথ মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় জাতীয় কবিকে। সেখানে কবির পরিবারসহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানায়।

এদিকে কুমিল্লা মহানগরী ও মুরাদনগরের কবিতীর্থ দৌলতপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও স্থানীয় প্রশাসন ও নজরুলপ্রেমীদের উদ্যোগে জন্মজয়ন্তী পালিত হয়। আজ শনিবার আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের কথা রয়েছে। বিস্তারিত আমাদের আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

জাতীয় পর্যায়ে ত্রিশালে অনুষ্ঠান : গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সিমিন হোসেন রিমি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আরো বলেন, ‘দেশভাগের পরবর্তী পর্যায়ে পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের সৃষ্টিশীলতা বাঙালি জাতিকে করেছে আন্দোলিত। ভাষাসংগ্রামসহ স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর গান, কবিতা, নাটক আমাদের বারবার অনুপ্রাণিত করেছে।’ তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালায় আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রতিদিন আলোচনাসভা শেষে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা : গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। প্রথমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপাচার্য দেশে না থাকায় তাঁর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন। এ সময় অধ্যাপক আবদুস সামাদ, অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, রেজিস্ট্রার এনামুজ্জামান, প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ সব হলের প্রাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর শ্রদ্ধা জানাতে আসেন কবির পুত্রবধূ উমা কাজী, উমা কাজীর নাতি দুর্জয় কাজী, জয়া কাজী, দুর্জয় কাজীর স্ত্রী রাখসিনদা। পরে শ্রদ্ধা জানাতে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের বেশ কয়েকজন নেতা শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি রণসংগীতের কয়েকটি লাইন গেয়ে শোনান।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। জাকের পার্টির যুব উলামা বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাইফুল ও প্রেস সেক্রেটারি শামীম হায়দারের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। এরপর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানায়।

পরে কবির সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় বিশ্ববিদ্যালয় নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, বিশিষ্ট কবি ও সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিভিন্ন স্থানে জাতীয় কবিকে স্মরণ : যশোরের কেশবপুরে চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে ১১৯তম নজরুল জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে।  লক্ষ্মীপুরে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শেরপুরে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়েছে। নীলফামারীতে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জন্মজয়ন্তী পালিত হয়। ফরিদপুরে আলোচনাসভা, কবিতা আবৃত্তি ও গানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ঝালকাঠিতে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হয়েছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে হয়েছে নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব।

শিল্পকলা একাডেমি : জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ভোরে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ১১টায় একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলাকেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা নজরুলের কবিতা আবৃত্তি ও গান গেয়ে শোনান। আশরাফুল আলম ‘সিন্ধু থেকে’, লায়লা আফরোজ ‘দোদুল দোল’, রফিকুল ইসলাম ‘আগমনী’ কবিতা আবৃত্তি করেন। শহীদ কবির পলাশ ‘শাওন আসিল ফিরে’, মাহমুদুল হাসান ‘পিয়া গেছে কবে পরদেশ’, নাহিয়ান দুর্দানা শুচি ‘রুমঝুম রুমঝুম আসিলো রে প্রিয়’ গান গেয়ে শোনান।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী মাশকুর-এ-সাত্তার কল্লোল।

শিশু একাডেমি : কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল সকালে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১০টায় একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমীন বেণু এনডিসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব নজরুল গবেষক এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। তিনি শিশুদের নজরুল বিষয়ে নানা তথ্য দিতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় কবি তাঁর রচনার মধ্যে বাংলা ভাষায় নতুন দুই হাজার শব্দ সংযোজন করেছেন। এটা তাঁর রচনাকে করেছে মাধুর্যময়। এতে বাংলা সাহিত্য হয়েছে সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর।

স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির পরিচালক ছড়াকার আনজীর লিটন। বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী বেশ কিছু নজরুলসংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।



মন্তব্য