kalerkantho


‘বাংলাদেশ ভবন’

শান্তিনিকেতনে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



শান্তিনিকেতনে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ

শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দুয়ার খোলার অপেক্ষায় ‘বাংলাদেশ ভবন’। ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুয়ার খুলছে ‘বাংলাদেশ ভবন’। দুই বাংলার নিবিড় সাংস্কৃতিক যোগসূত্র, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও নিত্য চিন্তা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত এই ভবন যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটিতে স্থান পেয়েছে মিউজিয়াম-লাইব্রেরি, অডিটরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, আর্কাইভস স্টুডিওসহ বাংলাদেশের নানা ঐতিহ্য, যেন প্রতিবেশী দেশের ভেতর এক খণ্ড সোনার বাংলা। এর আগে বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে অন্য দেশের ভবন হিসেবে শুধু ‘চীনা ভবন’ এবং ‘নিপ্পন (জাপান) ভবন’ তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আট বিঘা জমির ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর প্রবেশপথের দুধারে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি ম্যুরাল। ভবনটির মোট আয়তন ৪৪ হাজার বর্গফুট। ভবন নির্মাণে মাটি পোড়ানো ইট ব্যবহার না করে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি ইট ব্যবহার করা হয়েছে। চৌচালা ছাদে ইটের টালির পরিবর্তে পিভিসি লাল টালি দেওয়া হয়েছে। ভারতের সরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে (ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কম্পানি) দিয়ে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

ভবনটির নিচতলার উত্তর দিকে ১৬০ আসনবিশিষ্ট দুটি সেমিনার হল রয়েছে। দুটি হলের মধ্যে একটি ফোল্ডিং পার্টিশন দেওয়া হয়েছে। দরকার হলে পার্টিশনটি সরিয়ে মাল্টিপারপাস হল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। নিচতলার দক্ষিণ পাশে তিন হাজার বর্গফুটবিশিষ্ট একটি ডিজিটাল জাদুঘর আছে। তাতে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, বঙ্গবন্ধু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়াদি প্রদর্শন করা হবে।

ভবনের দোতলায় রয়েছে মিউজিয়াম। তার ঠিক ওপরে আছে এক হাজার ৩০০ বর্গফুটের একটি লাইব্রেরি। দোতলায় একটি স্টুডিও ও একটি ফ্যাকাল্টি রয়েছে। দোতলার বাঁ পাশে ক্যাফে, তার বাইরে খোলা ছাদের নিচে বসার জায়গা রয়েছে। ভবনের ভেতর ৪৫৩ আসনবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম আছে। এখানে আলো ও শব্দের যথাযথ প্রক্ষেপণ সংস্থান করা হয়েছে। অডিটরিয়ামের ছাদ নৌকার ছইয়ের আদলে গড়া। ভবনটিতে গবেষণা ছাড়াও বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বিষয় সংযুক্ত থাকবে। এ ছাড়া কবিগুরুর শিলাইদহ, পতিসর ও শাহজাদপুর পরিদর্শনের সময়কালীন ব্যবহৃত জিনিসপত্র ভবনটিতে থাকবে।

২০১১ সালের ৬-৭ নভেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তাতে মনমোহন সিং রাজি হন। এরপর ভবন স্থাপনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পূর্বপল্লীতে ইন্দিরা গান্ধী সেন্টারের কাছে জমি বরাদ্দ দেয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ভবনের নকশাটি বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ভবনটি নির্মিত হলো। বাংলাদেশ সরকার ২৫ কোটি টাকা দিয়েছে বাড়িটি তৈরি করতে এবং নির্বাহ খরচ হিসেবে দিয়েছে আরো ১০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ ভবন হবে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত শিক্ষাকেন্দ্র, যাতে গ্র্যাজুয়েট, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ও ডক্টরেট পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করতে পারবেন। ভবনটি  বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগীত নিয়ে চর্চা ও গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখবে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে বৈশাখী মেলা, কারুশিল্প মেলা এবং এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।



মন্তব্য