kalerkantho


বিএফএসএর কর্মশালা

ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই

ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে তাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে সম্প্রতি বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার মণ আম ও কলা ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বলেছে, এতে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। যারা এটাকে সমস্যা মনে করে ফলমূল ধ্বংস করছে তাদের কাছে প্রকৃত তথ্য নেই বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিজ মিলনায়তনে বিএফএসএ আয়োজিত ‘মৌসুমি ফল পাকাতে বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ দাবি করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন। বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. শাহ মনির, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক (পুষ্টি) ড. মো. মনিরুল ইসলাম, একই প্রতিষ্ঠানের হর্টিকালচার বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মো. আকরামুল হক, বারির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অপারেশন) শাহেদ আলম, বিএসটিআইএর সহকারী পরিচালক এ এস এম আবু সাইদ, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুইয়া, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আব্দুর রশিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং বিএফএসএর ফুড ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান প্রমুখ।

কর্মশালায় বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়, ইথোফেন আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রবন্ধে সারা বিশ্বে ইথোফেনের মাধ্যমে ফল পাকানোর বহু তথ্য তুলে ধরা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে যেভাবে ফল ধ্বংস করা হচ্ছে সেটা মূলত ইথোফেন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণেই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইথোফেন ফরমালিনের চেয়েও ক্ষতিকর এ তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, “ফল পাকাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার বৈধ। এটি ব্যবহার করার ফলে এর কোনো ‘রেসিডিউয়াল ইফেক্ট’ থাকে না, তাই ক্ষতি নেই। কার্বাইড ব্যবহারেও কোনো ক্ষতি নেই, যদি সেটা ফুড গ্রেডের (খাদ্য উপযোগী) হয়। তবে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কার্বাইড ব্যবহার করা হয়, যা নিম্নমানের। ফুড গ্রেডের কার্বাইডের ব্যবহার দেখা যায় না, কারণ তা অনেক ব্যয়বহুল। যে কারণে কার্বাইড সরকার নিষিদ্ধ করেছে।” ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন বিভিন্ন গবেষণার প্রতিবেদন এবং ইথোফেনের বৈজ্ঞানিক কাঠামো বর্ণনা করে বলেন, ‘ফল পরিপক্ব হয়ে যখন পাকতে শুরু করে তখন প্রাকৃতিকভাবেই ইথোফেন তৈরি হয়। এই ইথোফেনই ফল পাকায়। এর বিক্রিয়ার কারণেই ফলের রং পরিবর্তন হয়, ফলে ঘ্রাণ তৈরি হয়। সারা বিশ্বেই নির্দিষ্ট চেম্বারে ইথোফেন ব্যবহার করে ফল পাকানো হয়। যার কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নেই।’

অনুষ্ঠানে পুলিশের প্রতিনিধি শাহেদ আলম এবং বিএসটিআইএর সহকারী পরিচালক এ এস এম আবু সাইদ স্বীকার করেন, তাঁরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও ইথোফেন নিয়ে তাঁদের সঠিক ধারণা নেই। এ বিষয়ে তাঁদের আরো বেশি প্রশিক্ষণ দরকার বলে জানান তাঁরা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে আমগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে সেগুলোর আঁটিই শক্ত হয়নি। কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারে এনেছেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপদ খাদ্য আইনে আছে, ফলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা যাবে না। আর ইথোফেনের ক্ষেত্রে কেউ বলেন, এটা বেশি ক্ষতিকারক না, কেউ বলেন ক্ষতিকারক।’

 


মন্তব্য