kalerkantho


চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ

বিরোধ মিটিয়ে তৃণমূলকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সব শেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালের মাঝামাঝিতে। সম্মেলনের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১২ বছরের সেই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। একই অবস্থা নগরের সাংগঠনিক অপর ১৪টি থানা কমিটিরও। এর মধ্যে বেশির ভাগ থানা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ ১২ থেকে ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও সম্মেলন হচ্ছে না। সেই সঙ্গে প্রায় থানায় নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

এদিকে তৃণমূলে বিভক্তির কারণে ছয়টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুটি করে কমিটি রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন ওয়ার্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হচ্ছে না। বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতাদের বিভক্তির কারণে বেশির ভাগ ওয়ার্ডে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তৃণমূলকে ঢেলে সাজানোর কথা বললেও তা বেশি দূর অগ্রসর হয়নি। তৃণমূল নেতাদের দলাদলির কারণে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও নেমে এসেছে ক্ষোভ-হতাশা।

এ অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রের নির্দেশে নগর আওয়ামী লীগ তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইউনিট-ওয়ার্ড-থানা কমিটির সম্মেলন সম্ভব নয়। সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন না হলেও রমজান মাসেই কমিটিগুলো চাঙ্গা ও শক্তিশালী করতে কাজ শুরু করেছেন নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

তৃণমূলকে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা তৃণমূলকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যেসব ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিতে সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজ শুরু হয়েছে। রমজানের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করে তৃণমূলকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা আছে দ্রুত দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি মিটিয়ে ফেলার।’

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশ তো আছেই। তবে আমরা নির্বাচনের আগে আমাদের তৃণমূলের সমস্যাগুলো তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসে সমাধান করতে পারব। আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা বাস্তবায়নের কাজ কয়েক দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে। যে ছয়টি ওয়ার্ডে দুটি করে কমিটি আছে সেখানে একটি করা হবে। এ ছাড়া ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলোর মধ্যে যেখানে সংগঠনের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে তা চাঙ্গা করতে আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি আরো বলেন, থানা কমিটিগুলোর সম্মেলন হয়েছে এক যুগের কম হবে না। ওয়ার্ড কমিটিগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে। তবে সামনে নির্বাচন। আর বেশি দিন নেই। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে আপাতত নগর তৃণমূলে সম্মেলন করার চিন্তা নেই। যেখানে যে সমস্যা আছে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্যসচিব নেই সেখানে সিনিয়রদের মধ্যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল মুনসুর বলেন, ‘আমাদের কমিটি হয়েছিল সম্মেলনের মাধ্যমে। আমাদের এ কমিটিসহ নগরে চারটি থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তা ঠিক। আমরা কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েছিলাম সম্মেলন করার। আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে থানার সম্মেলন হয়নি। আমরা চাই সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব আসুক।’

চান্দগাঁও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কমিটি হয়েছিল সম্মেলনে। এর আগে ওয়ার্ডে একটি কমিটি হলেও তা নগর কমিটি অনুমোদন দেয়নি। আমরা সবার সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলন করেছিলাম। আমাদের কমিটি অনুমোদিত। তৃণমূলের বর্ধিত সভায় কাদের ভাই (দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের) নির্দেশ দিয়েছেন যেসব ওয়ার্ডে দুটি কমিটি আছে একটি করার জন্য। কিভাবে একটি করা হবে তা নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে।’

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট নগরের চান্দগাঁও ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে নিজাম উদ্দিনকে সভাপতি করে ৬৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। সেখানে নুর মোহাম্মদ সভাপতি এবং আয়ুব খানকে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া পাল্টাপাল্টি কমিটি হয়েছে নগরের মোহরা, উত্তর পাহাড়তলী, সরাইপাড়া, পাথরঘাটা ও পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে। ১৫টি থানা আওয়ামী লীগের কমিটির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই ১১টির। কোতোয়ালি, বায়েজিদ বোস্তামী, পাহাড়তলী এবং বন্দর থানা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলেও এসব কমিটির মেয়াদ অতিবাহিত হয়েছে অনেক আগে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরের ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের মধ্যে গত সাড়ে চার বছরে ২৬টি ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়। এ সময়ে সাংগঠনিক কোনো থানায় সম্মেলন হয়নি।


মন্তব্য