kalerkantho


সিটি নির্বাচন

খুলনার ফলাফলে চাঙ্গা গাজীপুর আ. লীগ, হতাশ বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বিপুল জয় পাওয়ায় আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে হয়ে উঠেছে গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। খুলনার মতো গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে তারা আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে গাজীপুুরের বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের ‘ভূমিকা’ নিয়ে।

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে—এমন ধারণা থেকে দেশবাসীর উত্সুক দৃষ্টি ছিল এ দুটি নির্বাচনের দিকে। ফলাফল কী হয় এ নিয়ে ছিল ব্যাপক জল্পনা। ‘খুলনা বিএনপির ঘাঁটি’ বিবেচনায় নিয়ে গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তালুকদার খালেকের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত আশাবাদী ছিল না। ফলাফল জানার পর তারা গাজীপুরের ক্ষেত্রে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘গাজীপুর আওয়ামী লীগের মজবুত ঘাঁটি। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের পরাজয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। তার পরও খুলনার বিজয়ে আমাদের প্রার্থী-কর্মীদের মনোবল অনেক বেড়ে গেছে।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ‘খুলনার বিজয় আমাদের গাজীপুরের বিজয়কে আরো সহজ করে তুলেছে। মানুষ উন্নয়নের কথা ভেবে খুলনায় ভোট দিয়েছে। একই অবস্থা গাজীপুরেও সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’

এদিকে খুলনার ফলাফলে হতাশ গাজীপুরের বিএনপি নেতারা বলছেন, এটা নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি। জেলা বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘খুলনায় পুলিশ প্রহরায় সরকারদলীয়রা প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনতাই করে নৌকায় সিল মেরেছে। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের এমন স্টাইল দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। এটি নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে।’

গাজীপুরে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল বুধবার টঙ্গীর নিজ বাসায় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেন, ‘সরকারকে খুলনার মতো গাজীপুরে নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি ও ভোট ডাকাতির আশ্রয় নিতে দেওয়া হবে না। এমনটা করা হলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিহত করব।’ তিনি নেতাকর্মীদের এ জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন বলেন, সরকার খুলনায় বিএনপির প্রার্থীর জোয়ার দেখে নানা প্রহসন করেছে। পুলিশ দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়াসহ নানা আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকরা ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। গাজীপুরে এমন নির্বাচনের স্বপ্ন দেখলে তারা ভুল করবে।

এদিকে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বুধবার জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিনি সকালে নগরীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মুসল্লি ও মাদরাসা শিক্ষক এবং দুপুরে টঙ্গীর সিরাজউদ্দীন সরকার বিদ্যানিকেতনে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তায় জেলা যুবলীগের আয়োজনে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টারের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় যোগ দেন। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এস এম আলতাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়াও বক্তব্য দেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেন সরকার, মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল প্রমুখ।

২৯ বিএনপি-হেফাজত নেতার আগাম জামিন : গাজীপুর জেলা বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের ২৯ নেতাকর্মীকে গতকাল বুধবার আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর পুলিশ গত ৭ মে বিশেষ ক্ষমতা আইনে টঙ্গী থানায় বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের ১০৩ নেতার নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে। আসামিদের অধিকাংশই হাসান সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও আত্মীয়। বুধবার ২৯ আসামি উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আট সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তাঁকে সহযোগিতা করেন জহিরুল ইসলাম সুমন।



মন্তব্য