kalerkantho


ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষণ

কেসিসির ভোটে ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে ‘সামান্য গোলযোগ’ হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে ‘সামান্য গোলযোগ’ হয়েছে। এই ছোটখাটো গোলযোগ ভোটের ফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। সার্বিকভাবে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন যতটা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে তা খুলনায় হয়নি।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সংগঠন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডাব্লিউজি) গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের এই পর্যবেক্ষণের কথা জানায়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ভোট গ্রহণের দিন ১৪৫টি কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এর মধ্যে ৩২ শতাংশ অর্থাৎ ৪৬টি কেন্দ্রে ‘সামান্য গোলযোগ’ হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সহিংসতা, কেন্দ্রে অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং ভোটারকে বাধাদান।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে সহিংসতা হয়েছে ১২টি ও ভেতরে চারটি, ভোটারকে ভোটদানে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি, পর্যবেক্ষককে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনা চারটি, কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ১০টি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে চারটি।

ইডাব্লিউজির পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, ‘৩২ শতাংশ কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু নির্বাচনী সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেগুলো নির্বাচনের ফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। যে কটি ঘটনা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন। ছোট ছোট ঘটনা নির্বাচনের ফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বা পরিবর্তন আনেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, পর্যবেক্ষণ করা কেন্দ্রগুলোর ৯৯.৩ শতাংশে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট পাওয়া গেছে। বিএনপির এজেন্ট ছিল ৮৮.৮ শতাংশ কেন্দ্রে। ভোট প্রদানের হার ছিল ৬৪.৮ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শুরুর সময় কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশ কেন্দ্রের লাইনে এক থেকে ২০ জন, ২৭ শতাংশ কেন্দ্রে ২১ থেকে ৪০ জন এবং ৩৪ শতাংশ কেন্দ্রে ৪০ জনের বেশি ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।

রংপুর সিটিতে গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে এযাবৎকালের সেরা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘তার থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনেক পিছিয়ে আছে। এর কারণ হলো, রংপুর সিটি করপোরেশনের ভোটে নির্বাচন কমিশন সব পক্ষের সমর্থন পেয়েছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির সদস্য ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপের প্রধান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। জাল ভোটের ক্ষেত্রে ইসির জিরো টলারেন্স নীতি ছিল বলেই তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।’



মন্তব্য