kalerkantho


ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ফিরোজা বেগম (৬০)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে নাজমা বেগম (৩৫)। বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসক দেখিয়ে রূপগঞ্জ ফেরার জন্য রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান ফিরোজা। লাফ দিয়ে সরে যাওয়ায় বেঁচে যান তাঁর মেয়ে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে গতকাল বুধবার দুপুরে। এর আগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর একই স্থানে মোবাইল ফোনে ‘সেলফি’ তোলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবক নিহত হয়েছিলেন।

আহত নাজমা বেগম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, রূপগঞ্জের গুতিয়াবো গ্রামে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তাঁর মা ফিরোজা। গতকাল দুপুরে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাঁরা দুজন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় হেঁটে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ওপারে গিয়ে রূপগঞ্জের কাঞ্চনে যাওয়ার গাড়িতে ওঠার কথা ছিল তাঁদের। তখন হঠাৎ কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি লাফ দিয়ে সরে যান। তবে তাঁর মা সরে যেতে পারেননি। পাথরের ওপর পড়ে তিনিও আহত হয়েছেন বলে নাজমা জানান।

স্থানীয় চা বিক্রেতা বাবুল জানান, নাজমা ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। তাঁর পেছনে ছিলেন ফিরোজা। এ সময় ট্রেন আসতে দেখে আশপাশের লোকজন তাঁদের সতর্ক করার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। ট্রেনটি খুব কাছাকাছি এসে পড়ে। তখন নাজমা লাফ দিলেও ফিরোজা পারেননি। ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন। ট্রেন চলে যাওয়ার পর লোকজন ছুটে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ফিরোজার মৃত্যু হয়। পরে একটি অটোরিকশায় মায়ের লাশ নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে চলে যান নাজমা।

ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা ফোন করে এমন একটি দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু পুলিশের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। লাশও পায়নি পুলিশ। তার পরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



মন্তব্য