kalerkantho


রোহিঙ্গা গণহত্যা অনুসন্ধান

তথ্য দেওয়ার নামে দুই সাংবাদিককে ধরার ফাঁদ পেতেছিল পুলিশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



তথ্য দেওয়ার নামে দুই সাংবাদিককে ধরার ফাঁদ পেতেছিল পুলিশ

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ফাঁদ পেতে আটক করার কথা স্বীকার করার পর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নেপিডোর এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে। ওই সাংবাদিকরা রোহিঙ্গা গণহত্যা অনুসন্ধানে কাজ করছিলেন। ক্যাপ্টেন মো ইয়ান নিং নামে মিয়ানমারের এক পুলিশ কর্মকর্তা গত শুক্রবার আদালতে স্বীকার করেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তাঁর ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেছিলেন। পরে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুজন পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় তথ্যসংবলিত নথি হস্তান্তরের কথা বলে তাঁদের ফাঁদে ফেলেছিলেন। এসব তথ্য ফাঁস করায় গতকাল শনিবার সকালে মো ইয়ান নিংয়ের পরিবারকে নেপিডোয় পুলিশ আবাসিক এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা হয়।

ক্যাপ্টেন মো ইয়ান নিংয়ের স্ত্রী গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সকালে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের অবিলম্বে ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বলেছেন। মো ইয়ান নিংকে এর আগে অষ্টম নিরাপত্তা পুলিশ ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তিন কো কোর নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলেও তিনি আদালতে বলেছেন।

রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারি মাস থেকে মামলার শুনানি চলছে। এদিকে ইয়ান নিংয়ের পরিবারকে উচ্ছেদ করা নিয়ে মিয়ানমারে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির মানবাধিকার আইনজীবী রবার্ট স্যান অং বলেন, এটি অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সত্য বলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মিয়ানমারে কারাবন্দি ওই দুই সাংবাদিকের ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তার হওয়ার আগে রাখাইনের ইন দিন গ্রামে রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ইন দিনে হত্যাযজ্ঞের ঘটনা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। এরপর এ মাসেই গোপনীয় এক বিচারে সাত সেনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ঘোষণা করে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়া তার জলসীমা থেকে গত শুক্রবার বিকেলে এক রোহিঙ্গাসহ ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে। তারা মিয়ানমার ছাড়ার পর ৯ দিন সাগরে ভাসছিল। উদ্ধার হওয়ার পর ফারিক মোহাম্মদ নামের ওই রোহিঙ্গা বলেছেন, তিনি মালয়েশিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন। প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি নৌকায় উঠেছিলেন। তিনি বলেন, তিনি মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কারণ সেখানে তাঁদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনো কাজও করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে তাঁদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 


মন্তব্য