kalerkantho


প্রশ্ন ফাঁস নেই, ভুয়া প্রশ্নের টোপ আছে

র‌্যাবের জালে আটক ৮৫

এস এম আজাদ   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



প্রশ্ন ফাঁস নেই, ভুয়া প্রশ্নের টোপ আছে

সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে র‌্যাবের কড়া নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। তবে ফাঁসকারীদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আসল প্রশ্ন ফাঁস করতে পারলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অনলাইনে যোগাযোগ করে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু দল। র‌্যাবের বিস্তৃত জালে ধরা পড়ছেও অনেকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার ১২তম দিন শেষে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে ৮৫ জন। র‌্যাবের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আলাদা ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপের অ্যাডমিন। এ রকম শতাধিক গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে। এরা অল্প সময়ে বেশি টাকা আয় করার জন্য এই অপকর্মে নেমেছে। র‌্যাবের অভিযানে এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রশ্ন বিক্রি করা চক্রও ধরা পড়ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নই আগেভাগে এসেছে সামাজিক মাধ্যমে। এতে ব্যাপক উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ ও সমালোচনার পর চলমান এইচএসসির পরীক্ষায় একটি প্রশ্নও ফাঁসের অভিযোগ মেলেনি। ২ এপ্রিল এই পরীক্ষা শুরুর আগের দিন থেকে তৎপর রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশের একাধিক সংস্থা। পরীক্ষা শুরুর আগে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস হতে দেওয়া হবে না। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের জঙ্গিদের মতোই খুঁজে বের করবে র‌্যাব।’

র‌্যাবের তৎপরতা প্রসঙ্গে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতচক্র ধরেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব চক্রের কর্মকাণ্ড অনেক দিন ধরেই নজরদারি করা হচ্ছিল। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সঙ্গে র‌্যাব সচেতনা সৃষ্টি এবং অভিযান জোরদার করে। এর ফলে র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন থেকে সফলতা মিলেছে।’ তিনি জানান, অভিভাবকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরীক্ষা হলের কাছাকাছি বাসাসহ অনেক স্থানে নজরদারি করা হয়। এসব কারণে প্রশ্ন ফাঁস করতে না পেরে একটি চক্র ভুয়া প্রশ্ন দিয়ে প্রতারণার কারবার শুরু করে। এরাও শনাক্ত হয়ে যাচ্ছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, গত ১ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ৬৪টি অভিযানে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠে আটটি অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। গতকালও দিনাজপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় একজনকে।

গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর মিরপুরের নাসিমবাগ এলাকা থেকে মাহমুদ হাসান ওরফে প্রচ্ছদ ওরফে পারফেক্ট, ইয়াসির আরাফাত ওরফে সাউদ, জুবায়ের আহমেদ ওরফে জাবের ও রমজান আলী টিটু নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১। এ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক শাহ মশিউর রহমান বলেন, চক্রটি ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে দেড় হাজার টাকায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করছিল। চক্রের এক সদস্য অ্যাডমিন মাহমুদ নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে এআইইউতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। এক বছরের বেশি সময় ধরে ভুয়া প্রশ্ন সংগ্রহ, প্রচার ও বিক্রি করে আসছে সে। মাহমুদ চারটি গ্রুপের অ্যাডমিন। সে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির জন্য গ্রুপগুলো ব্যবহার করত। প্রশ্নপত্র সে নিত অ্যাডমিনদের গ্রুপ থেকে। এই গ্রুপে রয়েছে ৯০ জন অ্যাডমিন, যাদের প্রত্যেকে নিজস্ব গ্রুপ চালাত। চক্রটি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ৬২টি অ্যাপস ব্যবহার করত।

র‌্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, বুধবার মহাখালী টিঅ্যান্ডটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে আল আমিন ও বায়োজিদ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন কিশোরগঞ্জের রিয়াদ নামের একজনের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করে। সে এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের কাছে ৮-১০টি পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেছিল। তবে সেসব প্রশ্ন ছিল ভুয়া। সে ফেসবুকে পোস্ট দিত এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ‘ফাঁসকৃত’ প্রশ্নগুলো ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলত। বায়োজিদও এসএসসি পরীক্ষায় ছয়টি প্রশ্ন বিক্রি করে।

গত ৬ এপ্রিল মালিবাগ বাজার রোডের একটি বাসা থেকে এহসানুল কবির নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩। সে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়ার ছেলে। পরিচয় জানার পরও তাকে ছাড় দেওয়া

হয়নি। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, এহসানুল নিজের হোয়াটসঅ্যাপে ‘Per Question 300 টাকা HSC’ এবং ফেসবুকে ‘Kusen Deta’ নামে আইডি খুলে প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণা চালাত।

 



মন্তব্য