kalerkantho


মিয়ানমার সেনাপ্রধানের দাবি

রোহিঙ্গা হত্যা ইস্যু নিষ্পত্তি হয়ে গেছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক প্রতিষ্ঠানে সেনাদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানোর সময় তিনি ওই দাবি করেন।

মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইন ভাঙলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেনেভা সনদের আলোকে এবং আইনের প্রতি সম্মান জানাতে ব্যর্থ হওয়া সামরিক কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ইন দিন গ্রামের সমস্যাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে।’

মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের ফেসবুক পেজে গতকাল শুক্রবার ওই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইন দিন গ্রামের রোহিঙ্গা গণহত্যার গোপন বিচার এবং এ নিয়ে বক্তব্য দেওয়াকে লোক-দেখানো বলে সমালোচনা রয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। এ ছাড়া মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধেই রোহিঙ্গা নিধনে সেনাবাহিনীকে উসকানি দেওয়ার জোরালো অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গাদের বিদেশি এবং জঙ্গি-সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন সেনাপ্রধান। তাঁর ওই উসকানির বিষয়টি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মিয়ানমারবিষয়ক একাধিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইন দিন গ্রামে গত সেপ্টেম্বর মাসে ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে এ মাসে সাতজন সেনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন মিয়ানমারের আদালত। রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইন দিন গ্রামের ওই হত্যাযজ্ঞটি প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ওই প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের অভিযোগ আনে মিয়ানমার। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী ইন দিন গ্রামের রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনা ছাড়া অন্যত্র হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ এখনো স্বীকার করেনি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইন দিন গ্রামের ওই ঘটনাকে অসংখ্য ঘটনার সামান্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। গত আগস্ট মাসে মিয়ানমারের বাহিনী রাখাইন রাজ্যে নতুন করে নিধনযজ্ঞ শুরু করার পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা মিয়ানমারে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছে। জাতিসংঘ রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার আশঙ্কা করেছে। তবে রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি আড়াল করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে এ মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে। জানা গেছে, প্রতিনিধিদলটি আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করতে পারে। ওই সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি নিরাপত্তা পরিষদে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



মন্তব্য