kalerkantho


মাটির নিচে ‘প্রাচীন’ জাহাজ

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মাটির নিচে ‘প্রাচীন’ জাহাজ

লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরে পুকুর খনন করতে গিয়ে একটি জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো জাহাজের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে এলাকার লোকজন। রামগতি উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের চর-আফজল গ্রামে একটি পুকুর খননের সময় ‘জাহাজের মাস্তুলের’ দেখা মেলে। আরো কয়েক শ ফুট জায়গাজুড়ে এর অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

দৈনিক সংবাদ পত্রিকার রামগতি ও কমলনগর উপজেলা প্রতিনিধি সানাউল্লাহ সানু লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে একটি বই লিখছেন। জাহাজের সন্ধান প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, ‘এটি মোগল আমলের পর্তুগিজ কিংবা আরাকান দস্যুদের জাহাজ হতে পারে। রামগতির চররমিজ নদীগর্ভ থেকে জেগে উঠেছে প্রায় ১৫০ বছর আগে। জাহাজটি তারও আগে নদীতে ডুবে থাকতে পারে।’ এ ব্যাপারে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের ধারণা, প্রায় ২০০ বছর আগে প্রমত্তা মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া জাহাজ এটি। তাঁরা বলছেন, এটি পর্তুগিজদের ব্যবহৃত জাহাজ হতে পারে। এতে ধনরত্ন ও অস্ত্রশস্ত্রসহ মূল্যবান সম্পদও থাকতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তিন বছর আগে নদীভাঙনের শিকার মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি চর-আফজল গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করেন। পরিবারের ব্যবহারের জন্য তিনি সম্প্রতি বসতঘরের পাশে পুকুর খনন করছিলেন। একপর্যায়ে দেখা মেলে ‘জাহাজের মাস্তুলের’। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে গ্রামে। মাহফুজের ছেলে মো. হেলাল জানান, ১০-১২ ফুট গভীরে যাওয়ার পর ‘জাহাজের মাস্তুল’ দেখতে পাওয়া যায়। এতে পুকুর খনন শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে খননকাজ বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, বিষয়টি আরো ভালোভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মাহফুজ নলকূপ মিস্ত্রি দিয়ে বোরিং করান আশপাশে। ২০০-৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে বোরিং করানো হয়। তাতে দেখা যায়, ১২-১৪ ফুট গভীরে গেলে পাইপ আটকা পড়ে। এ কারণেই এলাকার লোকজনের ধারণা, মাটির নিচে বিশাল আকৃতির ‘জাহাজ’ থাকতে পারে। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়।

বিবিকে পাইলট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু তাহের জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে নদী থেকে জেগে ওঠে চররমিজ। পরবর্তী সময়ে এখানে ফসল আবাদ ও বসতি গড়ে ওঠে। তার আগে এই চরসহ রামগতি উপজেলার বিশাল অংশ ছিল বিস্তৃত ও উত্তাল নদী। এই পথে তখন নিয়মিত চলাচল করত বড় আকৃতির জাহাজ। পর্তুগিজদেরও এই পথে যাতায়াত ছিল। সেই সময়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ হতে পারে এটি। কথিত জাহাজ দেখতে আসা নোয়াখালীর সুবর্ণচর কলেজের ছাত্র শরীফ ও আকবর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গবেষণায় জানা যাবে এটি কী এবং এর রহস্য ও ইতিহাস সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।



মন্তব্য