kalerkantho


ওয়ারীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত

পুলিশ বলছে—ছিনতাইকারী, স্বজনদের দাবি—শিশুশিল্পী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর ওয়ারীর জয়কালী মন্দির এলাকায় হোমিও কলেজের পেছনে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাকিব হাওলাদার (২২) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে। ওই সময় দেশীয় অস্ত্রসহ জাকির ও ধলা নামে রাকিবের দুই সঙ্গীকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাকিব ছিনতাই ও ডাকাতিতে জড়িত ছিল। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খন্দকার আবু তালহাসহ দুই হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সে।

তবে স্বজনদের দাবি, রাকিবের বয়স ১৪ বছরের কম। সে কোনো অপরাধে জড়িত ছিল না। সে চলচ্চিত্রের শিশুশিল্পী। আর বন্দুকযুদ্ধে নয়, গত বুধবার রাতে ওয়ারী থানার এসআই জোতিষ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবকে বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার তারা থানায় গেলে পুলিশ বের করে দেয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। 

ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত রাকিব গত বছরের অক্টোবরে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র আবু তালহা হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন। এ ছাড়া গত ১ এপ্রিল রাতে জয়কালী মন্দির এলাকায় আরেকটি ছেলে খুন হয়, ওই ঘটনায় ২ তারিখ যে মামলা হয়েছে, সেখানেও সে আসামি। এর আগে ওয়ারী থানার একাধিক ছিনতাই মামলার অভিযোগপত্রেও রাকিবের নাম এসেছে।’

আগে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে নিহত হয় রাকিব। তার বয়স ২২ বছর। তার দুই সহযোগীকে ধরা হয়েছে। কয়েকজন পালিয়েও যায়।’

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়া জানান, গত বছরের ৮ অক্টোবর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র তালহা ওয়ারীর বাসার কাছেই ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ওই ঘটনার ৯ দিন পর বেলাল হোসেন সবুজ ও আব্দুর রহমান মিলন নামের দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে তালহা হত্যায় রাকিবের ‘মূল ভূমিকায়’ থাকার কথা।

ওয়ারী থানার এসআই আবদুল খালেক দাবি করেন, একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে রাকিব নামে একজন আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে রাকিবের লাশ শনাক্ত করে স্বজনরা। সে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক মহসিন হাওলাদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

রাকিবের মা রিতা বেগম বিলাপ করে বলেন, “জোতিষ চন্দ্র নামে ওয়ারী থানার এক এসআই গত বুধবার রাতে বাসা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যান। তিনি বলেছিলেন, ‘একটি মামলায় সন্দেহজনক আসামি, যাচাই-বাছাই করে দিয়ে দেব।’ পরদিন থানায় গেলে তারা আর দেখতে দেননি, আমাকে বের করে দেন।”

নিহতের বাবা মহসিন হাওলাদার বলেন, ‘পুলিশ মিথ্যা বলছে। আমার ছেলের বয়স মাত্র ১৪ বছর, পুলিশ সেখানে লিখেছে ২২ বছর। আমার ছেলে শিশুশিল্পী। সে ২০১৫ সালে ‘ভাল আমাকে বাসতে হবে’ নামে ছবি করেছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পুলিশ আমার ছেলে নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’  

এদিকে সুরতহাল প্রতিবেদনেও পুলিশ রাকিবের বয়স ২২ উল্লেখ করেছে। রাকিবের বড় বোন চাদনী বলেন, ‘আমার নিজের বয়স ১৬ বছর। ছোট ভাই রাকিবের বয়স ১১-১২ হবে বছর।’



মন্তব্য