kalerkantho


রিজভী বললেন

নির্বাচন নিয়ে খেললে প্রতিরোধ করা হবে

সমাবেশের অনুমতি মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



একাদশ নির্বাচন নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেললে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার দুপুর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি।

গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হতে দেবে না এ দেশের জনগণ। ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন আর এ দেশে করতে দেওয়া হবে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাঁটাতারের বেড়া নয়, চীনের প্রাচীরের ন্যায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশের জনগণ, তরুণসমাজ, প্রতিটি শ্রেণি-পেশার ভোটার আর একতরফা নির্বাচন হতে দিয়ে দেশে এক ব্যক্তির জমিদারি শাসন চালাতে দেবে না।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন,  বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন খালেদা জিয়া; নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক; শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে; নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এই শর্তগুলো মানলেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, পিঠা ভাগের মতো সংসদীয় আসনের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ নিজদের কবজায় রেখে বাকি আসন অন্য দলকে বণ্টন করার কথা শোনা যাচ্ছে। এটা নির্বাচনহীন একদলীয় শাসনের নমুনা।

হুঁশিয়ারি দিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপি একতরফা ভাগাভাগির নির্বাচন কেবল প্রত্যাখ্যানই করবে না, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের ধাক্কায় সেই নির্বাচনকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

জনসভার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘সমাবেশের ব্যাপারে আমরা এখনো অপেক্ষা করে আছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন জনসভার যদি অনুমতি আসে, তাহলে আমরা প্রস্তুতি পুরোদমে চালিয়ে যাব এবং আমাদের স্টেজ করাসহ অন্য যে বিষয়গুলো, সেগুলো আমরা শুরু করে দেব। আমরা নির্দেশ পেলেই জনসভার কার্যক্রম শুরু করব। গণপূর্ত জানিয়েছে, পুলিশের অনুমতি পেলেই তারা মাঠ দিয়ে দেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপিতে বিএনপি নেতারা : সোহরাওয়ার্দীর জনসভার অনুমতির বিষয়ে গত শনিবার ডিএমপিতে গিয়েছিল বিএনপির প্রতিনিধিদল। দলে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের ভুইয়া, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। সেখানে তাঁরা ডিএমপি কমিশনারের সাক্ষাৎ পাননি।

আবদুস সালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএমপিতে ছিলাম। আমাদের বলা হয়েছে, কমিশনার স্যার মিটিংয়ে আছেন। তাই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা কম। এরপর ডিএমপি কমিশনারের সাক্ষাৎ না পেয়ে চলে এসেছি। গতকাল রবিবারও আমরা যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেখানে পজিটিভ কোনো রেজাল্ট পাইনি।’

 


মন্তব্য