kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা

৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের আবেদন জানাল জাতিসংঘ

‘শীর্ষ দাতা বাংলাদেশ’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের আবেদন জানাল জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় আগামী ১০ মাসে ৯৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৭,৭৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা) তহবিল জোগান দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো তাদের এনজিও অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে এই আবেদন জানায়।

জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সিপ্পো তহবিলের পক্ষে বক্তব্য দেন।

ওই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা করে।

ইউএনএইচসিআর ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘এ সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই। সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো পরিবেশ অবশ্যই সৃষ্টি করতে হবে। তবে এর আগে রোহিঙ্গাদের জরুরি চাহিদা মেটাতে সহযোগিতার আবেদন করছি। এই চাহিদা বিশাল।’

আইওএম মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও ঝুঁকি বিশাল। গত বছর তহবিল গড়তে অনেক সরকার আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে। এবারও রোহিঙ্গাদের সম্মান, সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বড় পরিসরে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সিপ্পো বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এই সংকটে সবচেয়ে বড় দাতা বাংলাদেশ। প্রয়োজনে প্রথম সাড়া দেওয়া, জমি দেওয়া, সীমান্ত খোলা রাখা, আশ্রয় দেওয়া, সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুত্ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, খাদ্যের জোগান, শিবিরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেসামরিক কর্মকর্তা, পুলিশ, সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া—সব কিছু করেছে বাংলাদেশ। এই সংকটে সবচেয়ে বড় দাতা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার।’

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দিয়ে ঝুঁকিতে থাকা তিন লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশির জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই এ তহবিল প্রয়োজন। রোহিঙ্গা ঢল শুরু হওয়ার পর গত কয়েক মাসে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান ‘শরণার্থী সংকটে’ পরিণত হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ছয় লাখ ৭১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

কুতুপালং-বালুখালী শিবিরকে বিশ্বের সর্ববৃহত্ ও সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ‘শরণার্থী বসতি’ হিসেবে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে।

 


মন্তব্য