kalerkantho


এবি ব্যাংকের অর্থপাচার

চেয়ারম্যান ও এমডিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। মামলাটির তদারক কর্মকর্তা হিসেবে আছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

কমিশনের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবি ব্যাংকের অর্থপাচারের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসামি নন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে টাকা পাচারের সময় এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল ছিলেন তৎকালীন পরিচালনা পরিষদের পরিচালক। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে এবি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান দুজনই অনিচ্ছাকৃত ভুল হওয়ার কথা স্বীকার করেন। সে সময়ে আরো কঠোরভাবে মনিটর করা প্রয়োজন ছিল। তবে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দুদকের কাছে এবি ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন। অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত দুবাইয়ের ব্যবসায়ী খুররুম আব্দুল্লাহ ও আব্দুস সামাদ খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এবি ব্যাংকই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্থপাচারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কমিশনের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার। নোটিশে উল্লেখিত সময়ের আগেই উপস্থিত হন এবি ব্যাংকের হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল আজিম।

জানা গেছে, ভুয়া অফশোর কম্পানিতে বিনিয়োগের নামে ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি মামলা দায়ের করে দুদক। তাতে এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ চৌধুরী ও মো. ফজলুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া অফশোর কম্পানিতে বিনিয়োগের নামে ১৬৫ কোটি টাকা এবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম ইপিজেড শাখা থেকে দুবাইয়ে পাচার করেন এবং পরে তা আত্মসাৎ করা হয়। টাকা আত্মসাতের সময় ওয়াহিদুল হক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে রয়েছেন ব্যাংকের গ্রাহক আটলান্টিক এন্টারপ্রাইজের সাইফুল হক। তিনি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মেয়ের জামাতা।

 

 

 



মন্তব্য