kalerkantho


ভোলায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল

বিএনপি ফের ক্ষমতায় এলে কাউকে বাড়িঘরে থাকতে দেবে না

নির্বাচন হবে এই সরকারের অধীনেই

ভোলা প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল ভোলায় এক সমাবেশে বিএনপি শাসনামলে তাঁর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতিত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘ওই সময়ে আমার একজন কর্মীকে মারতে পারলে বিএনপিকর্মীকে দুই টন গম দেওয়া হতো। আমার নেতাকর্মীরা কেউ এলাকায় থাকতে পারেনি। বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। এই বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে কাউকে বাড়িঘরে থাকতে দেবে না।’ 

তিনি পাশাপাশি বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূূলক। যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কিংবা সহায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে তাদের সেই স্বপ্ন কোনো দিন পূরণ হবে না। সংবিধান অনুসারে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যে রকম নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেই রকম নির্বাচন হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার শিবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেছেন। তিনি বক্তব্যের শুরুতে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। তারা গবাদি পশু জবাই করে খেয়েছে। লালমোহনে পানির মধ্যে ঝাঁপ দিয়েও গর্ভবতী মা সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারেননি। বোরহানউদ্দিনে আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমাকে রক্তাক্ত করেছে। আমার বাড়িতে হামলা করেছে। আমি বোরহানউদ্দিন যাওয়ার পথে বোমা মেরেছে, গুলি করেছে। আমাকে একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো। আমাকেসহ আমার আত্মীয়-স্বজনদের আসামি করা হলো। অথচ যে মারা গেছে তাকে আমি চিনিও না। আমি একজন মন্ত্রী ছিলাম। অথচ কাশিমপুর কারাগারে আমাকে ফাঁসির আসামির মতো ফ্লোরে রাখা হলো। কাশিমপুর কারাগার থেকে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হলো। যাওয়ার পথে ফেরিতে দেখি গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছে। পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম এটা কার গাড়ি? বলা হলো এটা সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদীর গাড়ি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার হাতে হাতকড়া আর রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা।

মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার পর ৩৩ মাস আমি জেলে ছিলাম। তিন মাস সূর্যের আলো দেখিনি। এরশাদের আমলে আমাকে জেলে নেওয়া হলো। খালেদা জিয়া প্রথমবার ক্ষমতায় এসেও আমাকে কারাগারে নিয়েছেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেও আমাকে আবার কারাগারে পাঠিয়েছে। আমার ও আমার নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে।

মন্ত্রী ভোলার বিভিন্ন উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে বলেন, বিগত কোনো সরকারের আমলেই ভোলার নদীভাঙন ঠেকাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোলা নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। মেঘনার ভাঙনরোধে দুই হাজার কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। এই শিবপুর ইউনিয়নে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা, ১৮ কিলোমিটার রিপেয়ারিং, চারটি প্রাইমারি স্কুল, একটি সাইক্লোন শেল্টারসহ অসংখ্য কালভার্ট-ব্রিজ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনুস, মইনুল হোসেন বিপ্লব, শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সদর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। মন্ত্রী এ ছাড়া বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন।



মন্তব্য