kalerkantho


রিমনকে হারিয়ে মা-বাবা পাগলপ্রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



গত রবিবার দুপুরে মা লিলি বেগমের সঙ্গে এস এম মাহমুদুর রহমান রিমনের মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়। তবে ছেলে যে নেপালে যাচ্ছেন, এ কথা জানতেন না তিনি। দুর্ঘটনার পর রিমনের স্ত্রী সানজিদা বেগম ফোনে খবরটি তাঁকে জানান। তবে রিমন যে আর বেঁচে নেই, এ কথা জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তিনি জ্ঞান হারান।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এস এম মাহমুদুর রহমান রিমন (৩০) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। রিমন ছিলেন লিলি বেগম ও মশিউর রহমান দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড়। তিনি রাজধানী ঢাকায় রানার গ্রুপে হেড অব সার্ভিস পদে কাজ করতেন। একই অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ফেনীর বাসিন্দা মো. মতিউর রহমান ও জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ফোরম্যান পাবনার বাসিন্দা নুরুজ্জামান বাবুও ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা নেপালে রমন মোটরসের কর্মীদের বিক্রয়োত্তর সেবার প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছিলেন। রানার অটোমোবাইলসের ডিস্ট্রিবিউটর রমন মোটরস রানারের বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্প্র্রসারণে কাজ করছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের নেপালে থাকার কথা ছিল।

রিমনের চাচা শাহ মো. আফতাবউদ্দিন জানায়, ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা মশিউর রহমান ও মা লিলি বেগম পাগলপ্রায়। রিমন ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

রানার গ্রুপের অন্যতম পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম পিয়াল জানান, নেপালে রানার গ্রুপের অফিশিয়াল কাজে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রিমন। বিমান দুর্ঘটনায় গ্রুপের তিনজন নিহত হয়েছেন। তিন সহকর্মীর অকাল মৃত্যুতে রানার গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোকাহত।

গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ দুর্ঘটনায় আমরা অত্যন্ত শোকাহত। তাঁদের শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। তাঁরা রানার অটোমোবাইলসের অত্যন্ত দক্ষ কর্মী ছিলেন।’ কম্পানির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে রানারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন।

 

 



মন্তব্য