kalerkantho


আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস আজ

রংপুর অঞ্চলে ৫০ নদী মৃতপ্রায়

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নদীগুলো পরিণত এখন মরা খালে। যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল আদি রংপুর, সেই ইছামতীকে এখন খুঁজে পাওয়া দায়। পানির অভাবে নাব্যতা হারিয়েছে তিস্তাসহ রংপুর অঞ্চলের প্রায় ৫০টি নদী। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীর অস্তিত্ব। নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এমনই এক বাস্তবতায় আজ পালিত হবে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস।

১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিতে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। বাঁধের বিরূপ প্রভাবের শিকার বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিবছর ১৪ মার্চ দিবসটি পালন করে আসছে।

ইছামতী নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল আদি রংপুর ও বন্দর মাহিগঞ্জ। একসময় বড় বড় জাহাজ ভিড়ত এ নদীর পাড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় নেই এ নদীর নাম। সেখানে খালসদৃশ ক্ষীণধারা রয়েছে, কোথাও বা হচ্ছে চাষাবাদ। নদীটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেই।

রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী একটি নদী ইছামতী। এ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রংপুরের সংস্কৃতির বিকাশ, সভ্যতার বিনির্মাণ। এ রকম একটি নদীকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। নদীগুলো পুনরুদ্ধার করতে হলে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, নদীর তলদেশ খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উৎসমুখ উন্মোচন করতে হবে। কৃত্রিম ক্যানেলের মাধ্যমে ছোট নদীগুলোর সঙ্গে বড় নদীর সংযোগ সাধন করা গেলে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের নদীগুলোতে আবার যৌবনে ফিরবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, উত্তরের প্রাচীনতম জনপদ রংপুর অঞ্চলে তিস্তা, ইছামতী, ধরলা, করতোয়া, দুধকুমার, জলঢাকা, সতী ঘাঘট, নীলকুমার, বাঙ্গালী, বড়াই, মানাস, কুমলাই, ধুম, বুড়িঘোড়া, সোনাভরী, হলহলিয়া, লহিতা, ঘরঘরিয়া, নলেয়া, জিঞ্জিরাম, ফুলকুমার, কাঁটখালী, সারমারা, রায়ঢাক, যমুনেশ্বরী, চিতনী, মরা করতোয়া, আলাই, ঘাঘট, কুমারীসহ প্রায় ৫০টি নদী এখন মৃতপ্রায়। এসব নদীতে নাব্যতা নেই, কোনো কোনো নদীতে হাঁটুজল। ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ১১২ মাইল দীর্ঘ নদী তিস্তা একেবারেই শুকিয়ে গেছে।

করতোয়া নদী ধুঁকছে পানিশূন্যতায়। পীরগাছা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আলাইকুড়ি নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। ঘাঘট নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। প্রায় অভিন্ন চিত্র রংপুর অঞ্চলের আট জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর ইসলাম জানান, ভারত একতরফাভাবে পানিপ্রবাহ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোও পানিশূন্য। রংপুর অঞ্চলের অর্ধশতাধিক নদীতে পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।

 


মন্তব্য