kalerkantho


আসামি ধরতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে নির্যাতন পুলিশের

জামালপুর প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আসামি ধরতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে নির্যাতন পুলিশের

জামালপুরের ইসলামপুরের জারুলতলা গ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে আটকের পর নির্যাতন চালিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর নাম সুজন মিয়া (৩৫)। তিনি একজন দরিদ্র ভটভটিচালক। তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারী নির্যাতন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার এক আসামি ধরতে গিয়ে ভুলবশত সুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়নি, ধস্তাধস্তিতে আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন।

গতকাল বিকেলে হাসপাতালে গুরুতর আহত সুজন মিয়া কালের কণ্ঠকে সারা রাত থানা হেফাজতে পুলিশের ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘থানায় নিয়া দুই হাত টানাইয়া আমারে লাঠি দিয়া পিটাইছে পুলিশ। আমি এর উচিত বিচার চাই।’

জানা যায়, ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসাইন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোশারফ হোসেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে পাথর্শী ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামে আসামি শফিকুল ইসলামকে ধরতে যান। ওই আসামির বাবার নাম আবুল কালাম। পুলিশের দলটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে ভটভটিচালক সুজন মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় সুজন মিয়া স্ত্রী রনি আক্তার ও তিন শিশুসন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ তাঁর ঘরের টিনে সজোরে আঘাত করলে সুজন মিয়ার স্ত্রী কে কে বলে উঠে ঘরের দরজা খোলেন। দরজা খোলামাত্রই পুলিশ সুজন মিয়াকে আটক করে। এ সময় সুজন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রনি আক্তার দুজনেই পুলিশকে জানান যে সুজন মিয়ার নামে থানায় কোনো মামলা নেই। পুলিশদের মধ্য থেকে কয়েকজন রনি আক্তারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে সুজন মিয়াকে আটক করে থানার দিকে রওনা হন।

সুজন মিয়া অভিযোগ করে জানান, পুলিশ তাঁকে গাড়িতে উঠিয়ে কাঠের পিঁড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটায় এবং কিল-ঘুষি-লাথি মারে। এরপর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাঁকে থানায় নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। পিটুনিতে তাঁর ডান কানে তিনি এখন কিছুই শুনতে পান না। ডান হাতের আঙুল ও কবজি ভেঙে গেছে। পিঠে এবং দুই পায়ের হাঁটুর নিচে থেকে কবজি পর্যন্ত মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে পরের দিন বুধবার সকালে পাথর্শী ইউপি সদস্য আজিম উদ্দিন ও পাশের বেলগাছা ইউপি সদস্য দৌলত হোসেন সুজন মিয়ার স্ত্রী রনি আক্তারকে নিয়ে থানায় গিয়ে সুজন মিয়ার ভোটার পচিয়পত্র দেখান। তাঁরা পুলিশকে জানান, নারী নির্যাতন মামলার আসামি শফিকুল ইসলামের পিতার নাম এক হলেও তার বাড়ি সুজন মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে। সুজন মিয়ার নামে থানায় বা আদালতে কোনো মামলা নেই।

এ অবস্থায় ইসলামপুর থানার ওসি মো. শাহীনুজ্জামান থানার নথিপত্র ঘেঁটে জানতে পারেন, সুজন মিয়ার নামে কোনো মামলা নেই। পরে দুজন ইউপি সদস্যের জিম্মায় সুজন মিয়াকে ছেড়ে দেন। সুজন মিয়াকে প্রথমে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতাল এবং পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

 


মন্তব্য