kalerkantho


আন্তর্জাতিক নারী দিবস

এক থেকে সাত রাষ্ট্রদূত পদে নারীদের রেকর্ড

মেহেদী হাসান   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এক থেকে সাত রাষ্ট্রদূত পদে নারীদের রেকর্ড

কূটনীতিক মাহমুদা চৌধুরী ১৯৭২ সালে যখন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন, তখন তিনিই পুরো মন্ত্রণালয়ে একমাত্র নারী সদস্য। ১৯৭১ সালের এক নির্মম পটভূমিতে ঢাকা কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ও পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া মাহমুদা চৌধুরী পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত হয়ে ওঠেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভুটানে রাষ্ট্রদূত এবং এরপর লন্ডনে ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০০ সালে অবসরে যান। সুদীর্ঘ ২৮ বছরের প্রথম কয়েক বছর অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও কূটনীতিতে পড়ালেখা করে তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রীলঙ্কা, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশ মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়া প্রথম নারী নাসিম ফেরদৌস। ১৯৭৭ সালে কূটনৈতিক পেশায় যোগ দেন তিনি। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি অবসর নেন।

বর্তমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের সাতজন নারী কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে রাষ্ট্রদূত ইসমাত জাহান বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে ইইউতে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) স্থায়ী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইসমাত জাহান ‘সিনিয়র সচিব’ হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া পররাষ্ট্র ক্যাডারের প্রথম সদস্য।

এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতেমা জাপানে, সুলতানা লায়লা মরক্কোতে, মাশফি বিনতে শামস নেপালে, সাঈদা মুনা তাসনীম থাইল্যান্ডে, আবিদা ইসলাম দক্ষিণ কোরিয়ায় ও সামিনা নাজ ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা সবাই পেশাদার কূটনীতিক।

বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় শীর্ষে অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়া ওই কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রেও যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী দিনগুলোতে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নারী কূটনীতিকদের উপস্থিতি আরো বাড়বে।

এদিকে ঢাকায় বর্তমানে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর শীর্ষ পদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী কূটনীতিক কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি মারগারেথা কুলেনারে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পামপিমন সুয়ানাপোনে, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিব্লেট, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোটা স্লাইটার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেঞ্চে তিয়েরিংক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপো, ইউএন উইম্যানের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শোকো ইশিকাওয়া, ইউএসএআইডির মিশন প্রধান ইয়ানিনা ইয়ারুজেলস্কি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি ক্রিস্টা রাডার অন্যতম।

 


মন্তব্য