kalerkantho


মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সারা দেশে আরো ৮ হাজার ফ্ল্যাট হচ্ছে

আরিফুর রহমান   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সারা দেশে আরো ৮ হাজার ফ্ল্যাট হচ্ছে

আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নিশ্চিত করতে সারা দেশে নতুন করে আরো আট হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এসব ফ্ল্যাট নির্মাণে খরচ হবে দুই হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই টাকা জোগান দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এটি হবে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

এদিকে আজ একনেক সভায় ‘জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ শিরোনামের আরো একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ৬৬২ কোটি টাকা। এরই মধ্যে সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) তহবিল থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৪৪০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুনে তহবিল গঠনের পর বাংলাদেশ প্রথম এই তহবিল থেকে অনুদান পাচ্ছে। প্রকল্পটির বাকি ২২২ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আরো ফ্ল্যাট : মুক্তিযোদ্ধাদের থাকার ব্যবস্থা করতে সারা দেশে এখন বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অফিসের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব ফ্ল্যাটের প্রতিটির আয়তন হবে ৯৮২ বর্গফুট। এতে তিনটি বেডরুম, একটি ড্রইং কাম ডাইনিং রুম, দুটি বাথরুম থাকবে। বারান্দা বা বেলকনির ব্যবস্থাও থাকবে ফ্ল্যাটে। ৫৩২টি বহুতল ভবনে এসব ফ্ল্যাট তৈরি হবে। ফ্ল্যাটে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। প্রথম দিকে ভবনে লিফট দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা থাকলেও পরিকল্পনা কমিশন পরে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। কমিশনের মতে, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহ সম্ভব হবে না। লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ সার্ভিসও দুরূহ হবে। গ্রামে লিফটের সঙ্গে অনেকে অভ্যস্ত নয়। একই সঙ্গে আটতলা ও দশতলা ভবনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে পাঁচতলা ভবন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মইনুল হক আনসারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সব জেলা ও উপজেলায় নির্বাচিত স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে অফিস ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য। আর বাসস্থান বলতে শুধু থাকার জন্য।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সারা দেশে ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এখন বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান আছে। এরই মধ্যে একটি হলো ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ, সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ।

জিসিএফ তহবিল থেকে টাকা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

২০১৫ সালে জিসিএফ বোর্ডে বাংলাদেশের জন্য ‘জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ প্রকল্পে ৪৪০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, এই প্রকল্পের আওতায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরগুনার ২০ উপজেলায় ৪৫টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ, বিদ্যমান ২০টি সাইক্লোন সেন্টার সংস্কার ও সড়ক কানেকটিভিটি উন্নয়ন হবে ৮২ কিলোমিটার। এ ছাড়া ২০০ টিউবওয়েল ও ২০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ হবে।

 


মন্তব্য