kalerkantho


আন্তর্জাতিক নারী দিবস

সংরক্ষিত আসনের নারী এখনো বৈষম্যের শিকার

কাজী হাফিজ   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সংরক্ষিত আসনের নারী এখনো বৈষম্যের শিকার

১৯৯৭ সালে সে সময়কার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যাত্রা শুরু হয় সংরক্ষিত নারী আসনের। নারীর ক্ষমতায়নে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ, পরে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদে এ ব্যবস্থা চালু হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের চার হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৯টি পৌরসভা, ১১টি সিটি করপোরেশন, ৪৮৯টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদে (পার্বত্য তিন জেলা বাদে) প্রায় ১৮ হাজার নারী জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদেও রয়েছেন সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী প্রতিনিধি। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নারীর ক্ষমতায়নে ২০ বছর আগে সংরক্ষিত আসনের যে প্রশংসিত যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সফলতা কতটুকু?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে। আর এই কাঠামোর পরিসর ও আসনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীবান্ধব পরিবেশই অনুপস্থিত। এসব আসনে নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিরাও জানাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। তাঁদের ‘বাঁয়ে শূন্য’ বা অপ্রয়োজনীয় বলে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। তা ছাড়া তাঁদের কাজের পরিধিও এখনো নির্দিষ্ট হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করায় স্থানীয় পর্যায়ে যে নারী নেতৃত্ব তৈরি হয়েছিল, তা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নির্বাচনে নারীদের অনাগ্রহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত ২৯ জানুয়ারি এক হাজার ৪৯১টি শূন্যপদে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। এর জন্য ২১৫টি আসনে প্রার্থীই পাওয়া যায়নি। আর ৮৭৩টি আসনে একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য মঞ্জুরা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে এক বছরের মতো ওই পদে ছিলাম। সম্মানী ভাতা পাইনি। আমার কী কাজ, তাও বুঝতে পারিনি। কিন্তু যখন পৌরসভায় সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর ছিলাম তখন সম্মানী ভাতা পেতাম।’

অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক অনেক।


মন্তব্য