kalerkantho


ক্রসফায়ারে বরগুনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরগুনা ও পাথরঘাটা প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বরগুনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ক্রসফায়ারে দুজন নিহত হয়েছে। বরগুনায় জলদস্যু হাসান বাহিনীর সদস্য আতাউর সরদার (২৫) ও রবিউল মাঝি (২৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাবেদ মিয়া (৪০) নামের ৯ মামলার এক আসামি ক্রসফায়ারে পড়ে প্রাণ হারায়।

র‌্যাব জানায়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মাঝেরচর এলাকায় গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-৮-এর পুটয়াখালী ক্যাম্পের কমান্ডার সুরত আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মাঝেরচর নামক স্থানে অভিযান চালায় র‌্যাব-৮। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে উদ্দেশ করে গুলি ছোড়ে জলদস্যু হাসান বাহিনীর সদস্যরা। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে জলদস্যুরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে জলদস্যুদের ব্যবহৃত দুটি কাটারাইফেল, চারটি পাইপগান ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের বন্দুকের ৩৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পদ্মা স্লুইস এলাকার অধিবাসী মো. হাবিব ও মো. দুলাল জানান, সকাল ৬টার দিকে তাঁরা চরে গোলাগুলির শব্দ পেয়েছেন। পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম জানান, র‌্যাবের ডিএডি মো. আমজাদ হোসেন পাথরঘাটা থানায় পৃথকভাবে হত্যা ও অস্ত্র মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি এই চরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পটুয়াখালীর দুই জলদস্যু নিহত হয়েছিল।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত জাবেদ নবীনগর উপজেলার কাইতলা গ্রামের পূর্ব পাড়ার ইদন মিয়ার ছেলে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে নবীনগর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে এসব মামলা হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে কাইতলা হাসান শাহ মাজারের পুকুরপাড় থেকে জাবেদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে শিবপুর পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ জানায়, কাইতলার হাওরভাঙ্গা ব্রিজের নিচে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে তার দল ডাকাতি ও ছিনতাই করে। অস্ত্র উদ্ধারে রাত সোয়া ৩টার দিকে জাবেদকে নিয়ে ওই স্থানে পৌঁছামাত্র তার সহযোগীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তাদের গুলিতে জাবেদ আহত হলে তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। ভোর ৫টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ আরো জানায়, আত্মরক্ষার্থে পুলিশও ২৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ছোড়া গুলিতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইহসানুল হক, অসীম চন্দ্র ধর, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবুল কালাম, কনস্টেবল নাজমুল হোসেন ও পারভেজ আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় পাইপগান, ছয় রাউন্ড কার্তুজ, চার রাউন্ড কার্তুজের খোসা ও চারটি রামদা উদ্ধার করা হয়।

নবীনগর থানার ওসি মো. আসলাম সিকদার বলেন, জাবেদ চিহ্নিত ডাকাত। সর্বশেষ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ও আরেকটি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।



মন্তব্য