kalerkantho


‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তদবিরের জ্বালায় অফিসে বসা দায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



তদবিরের জ্বালায় অফিসে বসা দায়

‘অনেক প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ নিয়ম না মেনেই গড়ে উঠেছে। যেসব কলেজ শুধু ডাক্তার তৈরির নামে সার্টিফিকেট দেয়, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন অনেকগুলো ত্রুটিপূর্ণ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায় থেকে এতই তদবির শুরু হয়ে যায় যে তদবিরের জ্বালায় অফিসে বসাই দায় হয়ে পড়ে।’ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, মেডিক্যাল কলেজগুলো মানসম্পন্ন করা না গেলে, লেখাপড়ার উপযুক্ত সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে খুবই খারাপ হবে। মানসম্পন্ন ডাক্তার তৈরি হবে না, মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাবে না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিএইচআরএফের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব, সাধারণ সম্পাদক নিখিল মানকিন প্রমুখ।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ শুনে মিট দ্য প্রেসের মধ্যেই কয়েকটি হাসপাতালে তাত্ক্ষণিক ফোন করে বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিচালকদের কাছে জানতে চান এবং দুটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুটি সমস্যা সমাধানের তাত্ক্ষণিক নির্দেশ দেন।

নার্সের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় অভিযুক্ত একাধিক নার্স নেতার নেতৃত্বে সম্প্রতি ‘বঙ্গবন্ধু নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটি সংগঠন চালুর কথা শুনে মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা আশা করা যায় না, আর এমন কোনো সংগঠনকে আমার প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের স্বাস্থ্য খাতে গত সাড়ে চার বছর এবং আগের পাঁচ বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে। সীমাবদ্ধতার সুযোগে কিছুটা অনিয়ম-দুর্নীতিও যে হচ্ছে সেটাও অস্বীকার করা যাবে না। তবে নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকাংশে ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই-তিন মাসের মধ্যে আরো পাঁচ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে তাঁদেরকে গ্রামে পোস্টিং দেওয়া হবে। পরে আরো পাঁচ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে নির্বাচনের আগেই। আরো নার্স নিয়োগেরও প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রী জানান, চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এ সমস্যা কাটাতে রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য আলাদা দুটি আইন প্রণয়নের কাজ অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। আশা করা যায় অল্প দিনের মধ্যেই ওই আইন চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

আরেক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার বড় আরেকটি সমস্যা হচ্ছে হাসপাতালগুলোর নোংরা পরিবেশ। আমি মন্ত্রী হিসেবে যখন কোনো হাসপাতাল দেখতে যাই তখন ঠিকই পরিষ্কার করা হয়, অন্য দিনগুলোতে থাকে ভিন্ন চেহারা। কিন্তু রোগীদের নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা দিতে হলে যেকোনো মূল্যে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যদিও একদিকে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত চাপ, আরেক দিকে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা যায় না। এদিকে নজর রেখে ইতিমধ্যে নানা জটিলতা কাটিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৪০ হাজার লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

 



মন্তব্য