kalerkantho


সুন্দরবনে দস্যুদের আস্তানা থেকে ১৪ জেলে উদ্ধার

গোলাগুলির পর যৌথ অভিযান

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাগেরহাটের সুন্দরবনে বনরক্ষী ও কোস্ট গার্ড বনদস্যুদের কাছ থেকে ১৪ জেলে এবং সাতটি নৌকা উদ্ধার করেছে। দুই ধাপে এই অপহৃতরা উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুুরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাধীন কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের গাতার খাল এলাকায় প্রথমে দস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের বন্দুকযুদ্ধ ঘটে। প্রায় আধাঘণ্টা গোলাগুলির একপর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটলে তাদের আস্তানা থেকে ছয় জেলে এবং চারটি মাছ ধরার নৌকা উদ্ধার করা হয়। পরে দস্যুদের ধরতে কোস্ট গার্ড এবং বন বিভাগ যৌথ অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে বিকেল ৫টার দিকে দস্যুদের আস্তানা থেকে আরো আট জেলে এবং তিনটি জেলে নৌকা উদ্ধার করা হয়। তবে সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো দস্যুর হতাহত বা আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, বন বিভাগের সদস্যরা গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা গাতার খালে কয়েকটি নৌকা দেখতে পান। তাঁরা ট্রলার নিয়ে ওই নৌকাগুলোর কাছাকাছি গেলে বনের মধ্যে থেকে বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালান। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে গোলাগুলির একপর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটলে তাদের আস্তানা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ছয় জেলেকে এবং খাল থেকে জেলেদের চারটি নৌকা উদ্ধার করা হয়। তবে ওই বন্দুকযুদ্ধে কোনো দস্যু হতাহত হয়নি।

মাহমুদুল হাসান জানান, এরপর দস্যুদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরা যৌথ অভিযান শুরু করেছেন। কোস্ট গার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের অপারেশন বিভাগের অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহ্দীন জানান, বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধের খবর পাওয়ার পর বিকেল থেকে তাঁরা সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু করেছেন। কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরা কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন। বিকেল ৫টার দিকে যৌথ বাহিনী কচিখালী এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আট জেলে ও তিনটি জেলে নৌকা উদ্ধার করে। মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুরা ওই সব জেলেকে অপহরণ করে তাদের আস্তানায় জিম্মি করে রেখেছিল। 

উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে মো. জাফর শেখ (২২), গাউস শেখ (৪২), গফ্ফার হাওলাদার (২৭), নাজমুল হক (২৬), আবুল বাশার (১৯) ও মনিরুল হকের (২৩) নাম জানা গেছে। তাঁদের বাড়ি খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে বন বিভাগ জানায়। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহ্দীন জানান, উদ্ধারকৃত জেলেরা তাঁদের হেফাজতে রয়েছেন।

সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘চার দিন আগে ওই জেলেরা সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন থেকে পাস (অনুমতি) নিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের দুধমুখী এলাকায় মাছ ধরতে আসে। মুক্তিপণের দাবিতে বনদস্যু মামা-ভাগ্নে বাহিনী তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।’ 



মন্তব্য