kalerkantho


মানিকগঞ্জে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন

বাধা দিয়ে হামলা, আহত ২

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাধা দিয়ে হামলা, আহত ২

একই স্থানে যাত্রী ছাউনি ও দোকানঘর নির্মাণ করা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই সদস্য সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে মান্দারতা বাজার এলাকায়। এলজিএসপির আওতায় মান্দারতা বাজারে একটি যাত্রী ছাউনির নির্মাণকাজ শুরুর সময় হামলার ঘটনাটি ঘটে। উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহতরা হলেন চকমিরপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মুক্তিযোদ্ধা সায়েদুর রহমান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শরিফুল ইসলাম।

চকমিরপুর ইউপির চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, ঘিওর-দৌলতপুর সড়কের মান্দারতা বাজারে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা পরিষদও এই প্রকল্প অনুমোদন করে। এলজিএসপির আওতায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ছাউনিটি নির্মিত হবে। গতকাল সকালে যাত্রী ছাউনির নির্মাণকাজ শুরু করতে সায়েদুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম শ্রমিকদের নিয়ে মান্দারতা বাজারে যান। তখন আজাদ হোসেন, তাঁর ছেলে শুভ, সামসুদ্দিন চুন্নুসহ কয়েকজন এসে কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আজাদ তাঁর লোকজন নিয়ে সায়েদুর রহমান ও শরিফুলের ওপর হামলা চালান। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করে।

চেয়ারম্যান বলেন, যাত্রী ছাউনিটি নির্মিত হচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে তাদের অনুমতি নিয়ে। কিন্তু আজাদ জমিটিতে অবৈধভাবে দোকানঘর তুলে ভাড়া দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি অবৈধভাবে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। এ কারণে তিনি যাত্রী ছাউনি নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে আজ রবিবার পরিষদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান মিলে যাত্রী ছাউনির জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু মেম্বাররা অন্য জায়গায় যাত্রী ছাউনির কাজ শুরু করেন। এতে তিনি বাধা দিলে মেম্বাররা তাঁকে অশ্লীল গালাগাল করেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ঘটনা শুনে তাঁর ছেলে শুভ গিয়ে মেম্বারদের আচরণের প্রতিবাদ করে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আজাদ বলেন, অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মেম্বাররাই নির্ধারিত জমিতে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করছেন না।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা আহত দুই ইউপি সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কাজে বাধা দিয়ে একটি অপরাধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্মানিত দুজন ইউপি সদস্যকে হামলা করে আহত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি দুঃখজনক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি সুনীল কুমার কর্মকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য