kalerkantho


মেডিক্যাল শিক্ষায় বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করছে রংপুর

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মেডিক্যাল শিক্ষায় বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করছে রংপুর

রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচে মানসম্পন্ন শিক্ষার কারণে রংপুরে বাড়ছে বিদেশি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর রংপুরে আসছে শত শত শিক্ষার্থী। চলতি বছরে রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ, প্রাইম মেডিক্যাল কলেজসহ অন্যান্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে কয়েক শ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচ, মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার কারণেই তাঁরা রংপুরে আসছেন। তবে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষাদানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনাম বেড়ে চলেছে। এর আগে জর্দানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা জীবন শেষ করে ফিরে গেছেন।

চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়াশোনা করতে রংপুরকে বেছে নিয়েছেন নেপালের সেইঞ্জা প্রদেশের শিক্ষার্থী কেসব রোকা। পাঁচ বছর ধরে তিনি রংপুরের প্রাইম মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছেন। কেসব রোকা বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার পছন্দের জায়গা। এ দেশের পড়াশোনার পরিবেশ সুন্দর। বিশেষ করে মেডিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনার মান খুব ভালো। এখানকার জলবায়ু, জীবনাচরণ, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে আমার দেশের অনেক মিল রয়েছে। বেশির ভাগ সময়েই বাংলা ভাষায় কথা বলছি।’

রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও রংপুর ডেন্টাল কলেজে গিয়ে জানা যায়, ওই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন বিদেশি নাগরিক অধ্যায়ন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের অধিবাসী। এর মধ্যে নেপালের আসমিতা ভট্টারাই বলেন, ‘লেখাপড়ার জন্য রংপুর খুব ভালো জায়গা। রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের পর কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও এখন তা কেটে গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।’ ভুটানের ফুরবা ওয়াংচুক বলেন, ‘রংপুর ভালো লাগে।’

ভারতের কাশ্মীর অঞ্চল থেকে এসেছেন আসেম আবু বকর, ওমর সালামসহ বেশ কয়েকজন। তাঁরা রংপুর প্রাইম মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁরা বলেন, ‘ভারতের মেডিক্যাল কলেজগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে টিউশন ফি অনেক কম এবং পড়াশোনার মান অনেক ভালো। তাই এখানে পড়তে এসেছি।’

মালদ্বীপ থেকে আসা রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মরিয়ম সাজনা ও আমেনাত নাজদা জানান, তাঁদের দেশে কোনো মেডিক্যাল কলেজ নেই। অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আসা সহজ এবং সার্কভুক্ত রাষ্ট্রের জন্য কোটা আছে। আর কলেজে ভর্তি হতে তেমন একটা জটিলতা নেই।

মরিয়ম সাজনা ও আমেনাত নাজদা বলেন, এর আগেও আমাদের দেশ থেকে বাংলাদেশে মেডিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করতে অনেকে এসেছেন। তাঁরা দেশে ফিরে গিয়ে অনেক ভালো ভালো জায়গায় চাকরি করছেন।

এ দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক ভালো উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ‘এখানে স্বাধীনভাবে সব জায়গায় চলাফেরা করা যায়। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। এ দেশের মানুষের ব্যবহার অত্যন্ত ভালো।’

এ কলেজে নেপাল থেকে পড়তে আসা আসমিতা, ভারত থেকে আসা শহিদুল হক ও বিদ্যা রানীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে অনগ্রসর। বিশেষ করে মেডিক্যাল সায়েন্সের ক্ষেত্রে এ দেশের প্রযুুক্তি অনেকখানি পিছিয়ে রয়েছে। এখানে শিক্ষক ও ফিজিশিয়ানরা যথেষ্ট সময় দিয়ে পড়ান এবং প্র্যাকটিক্যালি সব কিছু বুঝিয়ে দেন ঠিকই। তবে আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন; কিন্তু এখানে সেগুলোর যথেষ্ট অভাব।

ভুটানের দাগানা অঞ্চল থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থী ফুরবা বানচু বলেন, ‘এখানকার পড়াশোনার পরিবেশ ভালো। বাইরের অনেক ছাত্রের সঙ্গে আমি বন্ধুত্ব করেছি। দূরবর্তী দেশগুলো থেকে আসা বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা আমাকে বহির্মুখী ও আত্মবিশ্বাসী বানিয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা অনুসারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই মোট আসনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানভেদে ৩০ থেকে ৫০ হাজার ডলার ফি আদায় করা হয় পাঁচ বছরের জন্য।


মন্তব্য