kalerkantho


ডিএনসির ডিজির হুঁশিয়ারি

মাদকে জড়ালে চাকরি থেকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘যেসব কর্মকর্তা তাঁদের কাজে অবহেলা করবেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন তাঁদেরও চাকরিতে রাখা হবে না। মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িত থাকলে বা মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসির ডিজি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই গ্রেপ্তার করা হয় মাদক ব্যবসায়ীদের। আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে। কিছুদিন পর তারাই জামিনে বেরিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়। ফলে কিছুতেই মাদক নির্মূল হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে অচিরেই আসছে জামিন অযোগ্য আইন। আগামী ১৩ মার্চ আন্ত মন্ত্রণালয় মিটিংয়ে এসংক্রান্ত খসড়া অনুমোদন হতে পারে। আশা করছি, এরপর এটি ক্যাবিনেটে যাবে। আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে মাদক আইন শক্তিশালী করার আশা প্রকাশ করছি।’

‘জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন’—এই স্লোগান নিয়ে গতকাল থেকেই সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ‘তথ্য অভিযান’ শুরু হয়েছে। মাদকবিরোধী এই প্রচার কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বলে জানান ডিএনসি মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সারা দেশে মাদকবিরোধী ‘তথ্য অভিযানের’ অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী এক মিনিটের টিভিসিটি এরই মধ্যে এফএম রেডিও, বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী মাদকবিরোধী নাটক, টিভি ফিলার, প্রামাণ্যচিত্র, গান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, হাটে-ঘাটে জনসমাবেশে প্রচার করা হবে। এ ছাড়া দেশব্যাপী মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করা হবে। স্কুল-কলেজে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিটি স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী কমিটি করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান, প্রতিদিন অন্তত এক মিনিট ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরবেন।

দেশে কত মাদকসেবী আছে জানতে চাইলে ডিএনসির ডিজি বলেন, সঠিক সংখ্যা তাদের কাছে নেই। তবে ৫০ লাখ থেকে ৭০ লাখ হবে বলে ধারণা করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থাকা ইয়াবা তৈরির ৪৯টি কারখানার ঠিকানা দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।



মন্তব্য