kalerkantho


বরিশালে নির্যাতিত মহিলা সহায়তা কর্মসূচি

২২ বছরে উপকৃত পাঁচ হাজার নারী

বরিশাল অফিস   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



২২ বছরে উপকৃত পাঁচ হাজার নারী

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার বরগুনার শিমু বেগম বরিশাল মহিলা সহায়তা কর্মসূচিতে অভিযোগ করেছিলেন স্বামীর বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী স্বামীর ভয়ে আশ্রয় নেন সেখানকার ডে কেয়ার সেন্টারে। গত বছর ১০ অক্টোবর এ অভিযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ২২ নভেম্বর অভিযুক্ত শামীম হাওলাদারকে ডাকা হয়। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। এরপর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপিস্থিতিতে পাঁচ শর্তে তাঁদের সমঝোতা হয়। আর কখনো যৌতুক দাবি ও নির্যাতন করা হবে না, সার্বক্ষণিক স্ত্রীকে দেখভাল করার পাশাপাশি বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করার শর্তে পরিত্রাণ পান শামীম। বর্তমানে এ দম্পতি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন বলে স্বজনরা জানায়। এ রকম পাঁচ হাজার ৯৩ জনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে গত ২২ বছরে। তাতেই নির্যাতিত নারীর ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে মহিলা সহায়তা কর্মসূচি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বরিশাল মহিলা সহায়তা কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৩৩১ জন নারীর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতনের শিকার এসব নারীর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৩ জনের অভিযোগই নিষ্পত্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ১৪৪ জন নারীকে সন্তান নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা-খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি পোশাক দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ৯৬০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১১১ জন নারী বর্তমানে স্বাবলম্বী। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে তিন মাস ধরে সন্তানসহ অবস্থান করছেন তাছলিমা, শিউলী ও হালিমা নামের তিনজন নির্যাতিত নারী। তাঁরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সেলাইয়ের।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সাবরিনা বিনতে রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম মোরশেদ তুষারের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের শুরুতে এ অভিযোগ পেয়ে শুনানি চলে কয়েক দফা। অবশেষে নভেম্বর মাসে মোহরানা হিসেবে তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে দুজনের বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। এভাবেই নির্যাতিত নারীদের অধিকার আদায়ে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংসার টিকিয়ে রাখতে চূড়ান্ত চেষ্টা চলে।

মহিলা সহায়তা কর্মসূচির সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্যাতিত নারীদের ন্যায়সংগত অধিকার পাইয়ে দিতেই এ উদ্যোগ। আমাদের কার্যক্রম শুধু নির্যাতিত নারীদের জন্য। তাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব রকম সহযোগিতা করা হয়। প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।’

 



মন্তব্য