kalerkantho


ছায়ানটের বসন্তবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছায়ানটের বসন্তবরণ

সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল কবিতা, গান ও নৃত্যে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে কবিতা, গান ও নৃত্যে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বসন্ত বন্দনার গান দিয়ে সাজানো হয় এই অনুষ্ঠান। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে ছিল এই আয়োজন।

রবীন্দ্রনাথের সম্মেলক নৃত্য-গীত ‘ওরে গৃহবাসী, খোল্ দ্বার খোল্’ ও ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’ দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মোর বীণা ওঠে’ গেয়ে শোনান লাইসা বিনতে কামাল। দ্বৈত কণ্ঠে মধুমিতা মল্লিক ও বিপ্রতীপ মল্লিক পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ‘ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি’। এ ছাড়া রবীন্দ্রসংগীত ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ সাবাত মোস্তফা প্রথন, ‘আজ সবার রঙে রং মিশাতে হবে’ অর্পিতা দাশ, ‘ও মঞ্জরী, ও মঞ্জরী আমের মঞ্জরী’ পরিবেশন করেন প্রিয়ন্তী অধিকারী।

এরপর নজরুলের সম্মেলক নৃত্য-গীত ‘মনের রং লেগেছে’ ও ‘বসন্ত এলো এলো এলো রে’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। নজরুলসংগীত ‘নতুন পাতার নূপুর বাজে’ সৌরান্তা ফ্লোরা ও ‘বসন্ত মুখর আজি’ গেয়ে শোনান বাঁধন কর্মকার। এর বাইরে অনুষ্ঠানে অতুলপ্রসাদের ‘মোরা নাচি ফুলে ফুলে’ সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা।

শুরু হলো আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব : আধ্যাত্মবাদের সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত বৈশ্বিক সংগীত আসর আন্তর্জাতিক সুফি উৎসব শুরু হয়েছে। ‘সম্প্রীতির জন্য সংগীত’ শিরোনামে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত আঙিনায় তিন দিনের এ উৎসবের সূচনা হয় গতকাল বিকেলে। এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান ও তুরস্ক। চার দেশের ১১৯ জন সুফি ও লোকসংগীত শিল্পীর সঙ্গে পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছে পাঁচটি সংগীতদল।

উৎসবের প্রথম দিনে সুফি গানের মরমি বাণীতে শ্রোতার অন্তরে প্রশান্তি ছড়িয়েছে মাইজভাণ্ডারী মরমি গোষ্ঠী, পারভেজ, শফি মণ্ডল, সামির কাওয়াল ও রাফাত।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি দেহনবি ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেভরিম ওজতুর্ক। সংস্কৃতিসচিব ইব্রাহীম হোসেন খানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও আল্লামা রুমি সোসাইটির সভাপতি মো. আব্দুল করিম। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় উৎসবের আয়োজক আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশ ও হাটখোলা ফাউন্ডেশন।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রথমেই সুফি গান নিয়ে মঞ্চে আসে ৯ সদস্যের মাইজভাণ্ডারী মরমি গোষ্ঠী। কোরাস কণ্ঠে তারা গেয়ে শোনায় ‘দমে দমে জপরে মন’। এই দলের বাবুল শীল গেয়েছেন ‘হায়রে আশেকের ভাণ্ডারী’। নয়নশীলের কণ্ঠে গীত হয় ‘কত খেলা জানরে মওলা’। ‘দেখে যাওরে মাইজভাণ্ডারে’ শিরোনামের গান শুনিয়েছেন আবু তালুকদার হাবিব। সৈয়দ আদিল মাহবুব আকবরী গেয়েছেন ‘এহেন নিদানের কালে’। সব শেষে সম্মেলক কণ্ঠে দলটি পরিবেশন করে ‘মওলা তুইরে তুই’।

উৎসবে শিশুদের  হাতেখড়ি : গুরুজনদের কোলে বসে শিশুর প্রথম হাতেখড়ি নেওয়ার আয়োজন ‘হাতেখড়ি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হলো গতকাল শুক্রবার। শিশু একাডেমিতে বিকেলে তিন থেকে ছয় বছর বয়সী শতাধিক শিশুর হাতেখড়ি দিয়েছেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও কবি স্থপতি রবিউল হুসাইন।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাতেখড়ি জাতীয় পর্ষদের চেয়ারম্যান কামাল লোহানী। হাতেখড়ি জাতীয় পর্ষদের আহ্বায়ক জাহিদুল হক দীপু, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম ও অলোক দাস গুপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরায় দুই দিনের পথনাট্যোৎসব : লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর হবে। একমাত্র সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই দ্রুত মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। সমাজে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে উগ্র মৌলবাদ, মাদক থাকবে না। কুসংস্কারমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে থাকতে হবে। উত্তরায় দুই দিনের পথনাট্যোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে উত্তরা রবীন্দ্র সরণির বটমূলে পথনাট্যোৎসবের আয়োজন করে উত্তরা গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমির সহযোগী সংগঠন থিয়েটার অঙ্গন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন ও অপারেশন) মোখলেছুর রহমান।


মন্তব্য