kalerkantho


নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে হবে

নাটোর প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে হবে

ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। আমরা চাই দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকুক।’

গতকাল বৃহস্পতিবার নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী ও অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সবর্দা প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। কোনো অশুভ এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

ইঞ্জিনিয়ারিং কোরকে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী অংশ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কোরে ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ও ডিভ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার অ্যান্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রিক্রুট প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সেনা সদস্যদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে।’ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় দুর্গতদের সাহায্য ও সহযোগিতা করে সশস্ত্র বাহিনী ‘অনন্য দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নত, পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা প্রণীত নীতিমালার আলোকে আমরা ‘আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছি।”

সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে গত ৯ বছরে আমরা সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছি।’ সেনাবাহিনীতে নতুন পদাতিক ডিভিশন ও ব্রিগেড প্রতিষ্ঠাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম সজ্জিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীর সকল পদবির সৈনিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ তাদের জন্য বাসস্থান, মেস, এসএম ব্যারাক নির্মাণ করেছি। বেতন ও রেশন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এর আগে সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে কাদিরাবাদ সেনানিবাসে পৌঁছেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা। এই অনুষ্ঠান শেষে নাটোর থেকে রাজশাহী যান প্রধানমন্ত্রী।

 



মন্তব্য