kalerkantho


একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল একুশে পদকপ্রাপ্ত ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বাঙালি জাতি হিসেবে স্বকীয়তা যাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের গৌরবের অনেক কিছু রয়েছে, সেসব আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি—সেগুলো কেউ যেন ভুলে না যায়, সে জন্য এর যথাযথ মর্যাদাও আমাদের দিতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক-২০১৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পদকপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের শিল্প, সাহিত্য, কলাকুশলী থেকে শুরু করে অনেক রত্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বাংলাদেশে। শুধু খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসা এবং তাদের মর্যাদা দেওয়া। এই মর্যাদা দেওয়া এই কারণে যে আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে। আমাদের সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্যকে ধরে রাখতে পারে এবং তারা যেন উৎসাহিত হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা ২১ জনকে নিয়েছি। আমরা জানি আমাদের যোগ্য আরো অনেকে আছেন। আশা করি, পর্যায়ক্রমে আমরা সবাইকেই এই মর্যাদা দিতে পারব।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির পিতার যে আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল তা ছিল জাতি হিসেবে আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য। রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের মধ্য দিয়েই আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারি। আর আমাদের সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত হতে পারে।’

অনুষ্ঠানে পদক বিজয়ীদের হাতে সোনার মেডেল, সম্মাননাপত্র ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতিসচিব মো. ইব্রাহীম হোসেইন খান। পদক প্রদান পর্ব সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব মো. শফিউল আলম।

একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেন—ভাষা আন্দোলনে ভাষাসৈনিক আ জ ম তকীয়ূল্লাহ (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল ইসলাম; সংগীতে শেখ সাদী খান, সুজেয় শ্যাম, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, মো. খুরশীদ আলম ও ওস্তাদ মতিউল হক খান; নৃত্যে মুক্তিযোদ্ধা বেগম মীনু হক (মীনু বিল্লাহ); অভিনয়ে মরহুম হুমায়ুন ফরীদি (হুমায়ুন কামরুল ইসলাম); নাটকে নিখিল সেন (নিখিল কুমার সেনগুপ্ত); চারুকলায় কালিদাস কর্মকার, আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা, সাংবাদিকতায় ভাষাসৈনিক রণেশ মৈত্র, গবেষণায় ভাষাসৈনিক অধ্যাপক জুলেখা হক (মরণোত্তর), অর্থনীতিতে ড. মইনুল ইসলাম, সমাজসেবায় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন; ভাষা ও সাহিত্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম খান (কবি হায়াৎ সাইফ), সুব্রত বড়ুয়া, রবিউল হুসাইন ও খালেকদাদ চৌধুরী (মরণোত্তর)।

 

 



মন্তব্য