kalerkantho


শাহজালালে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়

প্যাসেঞ্জার হোল্ডিং লাউঞ্জের ঘাটতি মূল কারণ

নিখিল ভদ্র   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্যাসেঞ্জার হোল্ডিং লাউঞ্জের ঘাটতি মূল কারণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে প্রতিদিন ২৮টি এয়ারলাইনসের ৯৫টি ফ্লাইট ওঠানামা করছে। এর বিপরীতে প্যাসেঞ্জার হোল্ডিং লাউঞ্জ রয়েছে মাত্র আটটি। তা দিয়েই সামলানো হচ্ছে প্রতিদিনের ২০ হাজার যাত্রীর চাপ। এটিকে শিডিউল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩৪তম বৈঠকে দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংসদীয় কমিটি সূত্র জানায়, শিডিউল বিপর্যয় ও লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে যাত্রী হয়রানির কারণ জানাতে গিয়ে বিমান তাদের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইক্যুইপমেন্ট ও চেক-ইন কাউন্টারের স্বল্পতার কথা তুলে ধরেছে। শাহজালালে ইমিগ্রেশন কাউন্টারের স্বল্পতা ও বিমানবন্দরের সামনের সড়কের যানজটকেও এর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে।

শিডিউল বিপর্যয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সংসদীয় কমিটির করা সুপারিশের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে আটটি প্যাসেঞ্জার হোল্ডিং লাউঞ্জ রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া বিমানের যাত্রী বাস, পুশ কার্ট ও হাই লোডারের স্বল্পতা রয়েছে। শাহজালালে বিমানের জন্য মাত্র একটি ‘চেক-ইন বে’ বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যাটা খুবই কম। এ ছাড়া এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কাউন্টারের স্বল্পতা, কারিগরি কারণে উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড (অচল) হলে প্রতিস্থাপন করার মতো বাহন না থাকা, অপারেশনাল এরিয়াতে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবও শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

বিমান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এয়ারপোর্টের সামনের সড়কে ট্রাফিক জ্যামের কারণে যাত্রীরা প্রায়ই দেরিতে চেক-ইন কাউন্টারে উপস্থিত হয়। এ কারণেও ফ্লাইটে বিলম্ব হয়ে থাকে। এ ছাড়া ঢাকা এয়ারপোর্ট আইএলএস ক্যাটাগরি-২ পর্যায়ে উন্নীত না হওয়ায় শীত মৌসুমে কুয়াশায় যে বিলম্ব হয় তাতে বিমানের ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য রওশন আরা মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এর আগে কমিটির বৈঠকে শিডিউল বিপর্যয় রোধে বিমানকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে বহরে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের সময় তাদের সতর্ক থাকার সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বিমানের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আগামী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ বিমানের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি ‘৭৭৭-৩০০ ইআর’ ও দুটি ‘৭৩৭-৮০০’ নিজস্ব। বাকি ৯টি লিজ নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ‘এ ৩৩০-২০০’ উড়োজাহাজের লিজের মেয়াদ ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। আগামী মার্চ ও মে মাসে আরো দুটি ‘৭৭৭-২০০ ইআর’ উড়োজাহাজের লিজের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ ছাড়া বহরে থাকা দুটি ড্যাশ ‘৮-কিউ ৪০০’ উড়োজাহাজের লিজের মেয়াদ ২০২০ সালের এপ্রিলে এবং দুটি ‘৭৩৭-৮০০’-এর লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।

বহরে নতুন জাহাজ সংযোজন প্রসঙ্গে কমিটিকে বিমান জানায়, বোয়িং কম্পানির সঙ্গে ২০০৮ সালে সরকারের করা চুক্তি অনুযায়ী আগামী আগস্ট ও নভেম্বরে দুটি নতুন ৭৮৭-৮ এবং পরবর্তী বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে একই মডেলের আরো দুটি উড়োজাহাজ পাওয়া যাবে। অন্যদিকে কানাডার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান থেকে তিনটি ‘ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০’ উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরে মাঝারি পরিসরের দুটি উড়োজাহাজ আট মাসের জন্য এবং হজ মৌসুমের শিডিউল ঠিক রাখতে আরো চারটি উড়োজাহাজ তিন মাসের জন্য লিজ নিতে চাচ্ছে বিমান। এ ছাড়া দুটি ‘৭৩৭-৮০০’ ও একটি ‘ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০’ দীর্ঘ মেয়াদে লিজ নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।



মন্তব্য