kalerkantho


পোড়াদহ মেলা

১০০ কেজি ওজনের বাগাড় ১০ কেজির এক মিষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



১০০ কেজি ওজনের বাগাড় ১০ কেজির এক মিষ্টি

বগুড়ার গাবতলীতে পোড়াদহ মেলায় মাছের উৎসবে ১০০ কেজি ওজনের এই বাঘাইড়ের দাম হাঁকা হয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এক শ কেজি ওজনের বাগাড় মাছ। দাম হাঁকা হয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ১০ কেজি ওজনের একটি মিষ্টি। দাম চার হাজার টাকা। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো লোকজ মেলা বগুড়ার পোড়াদহের মেলায় এবারও অন্য সব আয়োজন ছাপিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এ দুটি বিষয়।

এত বড় মাছ কেনার সামর্থ্য সবার নেই। এত বড় বড় মিষ্টিও সবার কেনার কথা নয়। কিন্তু কৌতূহল যখন আছে, তখন দেখার সামর্থ্য রোখে কে? বড় মাছ ও বড় মিষ্টির দোকানেও দেখা গেল তাই শত শত মানুষের ভিড়। মেলায় এলাম, বড় মাছটি দেখলাম না তা কি হয়? কত দামে বিক্রি হলো? সেটাও জানার কৌতূহলের শেষ নেই। জানা গেল, শেষ পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার টাকায় ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে মাছটি কেটে টুকরো করে বিক্রি করা হয়েছে।

শুধু বড় আকারের এই একটি বাগাড়ই নয়, মেলায় উঠেছিল ২০ থেকে ৮০ কেজি ওজনের আরো অনেক বাগাড় মাছ। ছিল সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত আইড়, বোয়াল, কাতলা, রুই, চিতল ও মৃগেল মাছ।

গতকাল বুধবার বসেছিল বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই পোড়াদহ মেলা। মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠা এই মেলা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণেয় মুখর হয়ে ওঠে। তবে মেলায় মাছ ও মিষ্টিই প্রধান জিনিস নয়, প্রধান আলোচনার বিষয় মাত্র। মেলায় উঠেছিল ফার্নিচার, গৃহসজ্জা, তৈজসপত্র, খেলনা সামগ্রী। এ ছাড়া মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাসসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

গাবতলীর চকমড়িয়া গ্রামের ভোলা মিয়া, আবুল কাশেম, লাল মিয়া, আবদুল জলিল, মোস্তাক হোসেনসহ পাঁচ-ছয়জন মাছ ব্যবসায়ী জানান, যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাগাড় কেটে বিক্রি করছেন এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। আর ১০০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির মাছটি বিক্রি হয় এক হাজার ২৫০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া এই মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম হাঁকা হয়েছে প্রতি কেজি এক হাজার ৬০০ টাকা। ১৫ থেকে ১৮ কেজি ওজনের কাতলা মাছ দুই হাজার ২০০ টাকা কেজি। আট থেকে দশ কেজি ওজনের কাতলা মাছ এক হাজার ২০০ টাকা, ১০ কেজির বেশি ওজনের আইড় মাছ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া রুই, পাঙ্গাশ, বিগ হেডসহ অন্যান্য জাতের মাছ ওঠে মেলায়।

গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের ইছামতী নদীর তীরে পোড়াদহ এলাকায় বসেছিল দুই শ বছরের পুরনো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই ‘পোড়াদহ’ মেলা। এবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধে মণ্ডল পরিবারের জমির মালিকরা পোড়াদহ মেলার নির্ধারিত স্থানে আগেভাগেই বোরো ধান রোপণ করে। ফলে কাছেই পৃথক স্থানে এবারের মেলা আয়োজন করে স্থানীয়রা।



মন্তব্য