kalerkantho


বাণিজ্য শাখার প্রশ্ন মানবিকের ছাত্রীকে!

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাণিজ্য শাখার প্রশ্ন মানবিকের ছাত্রীকে!

নবম শ্রেণি থেকেই আজমিন আরা মানবিক শাখায় পড়ে আসছে। তার বিদ্যালয়ে বাণিজ্য শাখা নেই। কিন্তু এসএসসিতে তাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে এ শাখার প্রশ্নে। এটা কিভাবে হলো—এর উত্তর কারো কাছে পাওয়া গেল না।

আজমিন দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার ডাঙ্গারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫১৭৭৫৩১৫৬ (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ), রোল নম্বর ২৯০৫২২ ২০১৬-১৭। চিরিরবন্দর-বি (আলোকডিহি জেবি উচ্চ বিদ্যালয়) কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

জানা গেছে, চলতি বছর মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় আজমিন ডাঙ্গারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছে। নবম শ্রেণিতেই রেজিস্ট্রেশন হওয়ার নিয়ম থাকলেও তার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে পরীক্ষার তিন সপ্তাহ আগে।

উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের আজাহার আলীর মেয়ে আজমিন আরা জানায়, সে মানবিক শাখায় লেখাপড়া করেছে। তার বিদ্যালয়ে বাণিজ্য শাখা নেই। আজমিন আরো জানায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মানবিক শাখার ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ের প্রশ্নপত্র পেয়ে সে চমকে ওঠে। সে বলে, ‘ওই সব বই সম্পর্কে আমার ধারণা নেই, কিভাবে বাকি পরীক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।’

জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ২১০ নম্বর কক্ষে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে আজমিন। বাণিজ্য শাখার প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর সে যখন বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানায়, তখন তাঁরা অন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তাকে পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলেন। এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর-বি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নন্দন কুমার দাস বলেন, ‘বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। তবে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেওয়ার আগে ভালো করে দেখতে হতো।’

প্রবেশপত্রে কোন শাখা উল্লেখ আছে জানতে চাইলে আজমিন জানায় মানবিক শাখা উল্লেখ রয়েছে ঠিক, কিন্তু ওই শাখার বিষয় কোডে ভুল করে বাণিজ্য বিষয়ের কোড উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষার ব্যস্ততায় সে বিষয়টি খেয়াল করেনি।

ডাঙ্গারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বুলু কালের কণ্ঠকে বলেন, আজমিন অন্য বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। পরে তাকে এ বিদ্যালয় থেকে একজন দাতা সদস্যের অনুরোধে রেজিস্ট্রেশন এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হয়। সে মানবিক শাখা থেকে পরীক্ষা ফরম পূরণ করেছে। কিন্তু তার প্রবেশপত্রে বিষয় কোডে ভুল আছে, যা বাণিজ্য শাখার বিষয় কোড। এটা শিক্ষা বোর্ডের ভুল।

জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান বলেন, ‘যে বিদ্যালয়ে যে শাখা নেই সে শাখায় ফরম পূরণ হবে না। তা ছাড়া ভুল হলে ১০০ টাকা ফি প্রদান করে ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত সংশোধনের সময় ছিল।’



মন্তব্য