kalerkantho


পোড়াদহের মেলায় মাছ উৎসব আজ

আল মারুফ রাসেল   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পোড়াদহে ইছামতী নদীর তীরে আজ নামবে মানুষের ঢল। এই নদীর তীরে আজ বসবে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। অন্যান্যবারের মতো এবারও মেলায় নদীতে ধরা নানা প্রজাতির বিশাল বিশাল মাছ উঠবে বলে জানিয়েছেন মেলার আয়োজকরা।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলা উপলক্ষে আশপাশের ৩০ গ্রামে রীতিমতো উৎসবের আমেজ। প্রায় ৪০০ বছর ধরে মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দরে ইছামতী নদীর তীরে প্রতি মাঘ মাসের শেষ বুধবার এই মেলা বসে। প্রতিবছরই নদীর সবচেয়ে ওজনদার মাছ বাঘাইড়, বিশাল সব চিতল, কাতলা, রুই, বোয়ালের মতো বড়সড় মাছের সঙ্গে সামুদ্রিক ম্যাকরেল আর টুনাও থাকে। মাছ ছাড়াও এবার মেলায় অন্যতম আকর্ষণ থাকবে বেশ বড় আকারের রসে ভাষা ‘বালিশ মিষ্টি’।

‘বগুড়ার ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায়, পোড়াদহ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বাঙালি (স্থানীয় নাম মরা বাঙালি) নদীতে নাকি প্রতিবছর মাঘের শেষ বুধবার ঘটত এক অলৌকিক ঘটনা। এই দিনে বেশ বড় একটি কাতলা মাছ সোনার চালুনি নিয়ে ভেসে উঠত। মাঘের শেষ বুধবার এই অলৌকিক ঘটনা দেখার জন্য প্রচুর মানুষ বাঙালি নদীর ধারে বটতলায় জটলা করত। পরে স্থানীয় এক সন্ন্যাসী স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এই অলৌকিক মাছের উদ্দেশে অর্ঘ্য নিবেদন করতে বলেন। সন্ন্যাসীর ডাকে সাড়া দিয়ে পোড়াদহ বটতলায় সবাই অর্ঘ্য নিবেদন করে। কালক্রমে এটি পরিণত হয় সন্ন্যাসীপূজায়। পূজা উপলক্ষে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে এই দিনে। আর একই সঙ্গে শুরু হয় মেলা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, মনিহারি সামগ্রীর সঙ্গে অবশ্য অনুষঙ্গ হিসেবে থাকে মাছ।

বগুড়া শহর থেকে পোড়াদহ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আজ থাকবে সিএনজি অটোরিকশা, ভটভটি, ইজিবাইক, রিজার্ভ বাস, রিকশা-ভ্যান ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ জট। মেলামুখী অন্য সড়কেও থাকবে একই চিত্র। মেলায় খেলনার দোকানগুলো সরগরম থাকবে শিশুদের ভিড়ে। নাগরদোলা আর হোতা খেলায় ভিড় করবে শিশুরা।

এই মেলার স্থানীয় আরেকটি নাম হচ্ছে ‘জামাইমেলা’। এই মেলার সময় গ্রামের মেয়েরা তাঁদের স্বামীদের নিয়ে নাইওর আসেন (বাপের বাড়ি)। আর এলাকার প্রথা অনুযায়ী এই মেলা থেকে বেশ বড়সড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার অনুমতি পান জামাই বাবাজি! এ ছাড়া এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামগঞ্জের সবাই তাদের আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে আর বড় মাছ খাইয়ে আপ্যায়ন করে। এই মেলায় মাছের পর আর যে জিনিসটা বেশি চলে, সেটা হলো চুন। এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ সারা বছরের জন্য পান খাওয়ার চুন সংগ্রহ করে এই মেলা থেকেই। শঙ্খ থেকে সংগ্রহ করা এই চুনের বেশ কদর আছে বগুড়ার বাইরেও। আর রয়েছে ফার্নিচার। এই মেলায় ফার্নিচারের কদরও কম নয়!



মন্তব্য