kalerkantho


দেনার পাহাড়, তবু প্রফিট বোনাস!

আশরাফুল হক ও সরোয়ার আলম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেনার পাহাড়, তবু প্রফিট বোনাস!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পাবে। জেট ফুয়েলের টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে এই দেনার পাহাড় জমেছে। এ নিয়ে নানা দেনদরবার করেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা দুটি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত গত রবিবার সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন সংস্থা দুটির কর্মকর্তারা। সেখানে বিপিসির একজন পরিচালক বিমানের পরিচালককে বলেছেন, ‘দেনা পরিশোধ করতে না পারলেও আপনারা প্রফিট বোনাস নেন কিভাবে?’

বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমান গত অর্থবছরে ১৫১ কোটি টাকা মুনাফা করার ঘোষণা দিয়েছে। এই মুনাফার ওপর বিমানকর্মীরা পাঁচ শতাংশ হারে প্রফিট বোনাস নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেখানে বিমান তেল কেনার টাকা পরিশোধ করতে পারছে না, সেখানে তারা মুনাফা করার ঘোষণা দেয় কিভাবে। বিমানের এই অপারেশনাল প্রফিটের ঘোষণায় শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। এ বিষয়টিই তুলে ধরতে চেয়েছেন বিপিসির পরিচালক।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিমানের কাছে বিপিসি ছাড়াও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি টাকা পাবে। চলতি বছরে বিমানের কাছে তাদের পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

রবিবারের বৈঠকে বিপিসির পরিচালক মীর আলী রেজা বলেন, বিপিসি বিমানকে বিশেষ বিবেচনায় বাকিতে জ্বালানি সরবরাহ করে। নিয়মিত দাম পরিশোধ না করায় বিমানের কাছে বিপিসির বকেয়ার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ছয় বছর আগে ২০১১ সালে সমঝোতা হয়েছিল বিমান নগদ টাকায় তেল কিনবে। আর বকেয়া টাকা প্রতি মাসে কিস্তিতে পরিশোধ করবে। গত ছয় বছরে বিমান যে পরিমাণ জ্বালানি নিয়েছে, পরিশোধ করেছে তার চেয়ে অনেক কম। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিমান মাত্র ৬২ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে।

বৈঠকে বিমানের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) আলী আহসান প্রফিট বোনাস প্রসঙ্গে কথা বলেননি বলে জানা গেছে।

যোগাযোগ করা হলে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমান ৫ শতাংশ হারে প্রফিট বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই প্রফিট বোনাস থেকে একটা অংশ কল্যাণ তহবিলে দেওয়া হবে। যেসব বছরে বিমান মুনাফা করে সেসব বছরে সব সময়ই কর্মীদের প্রফিট বোনাস দেওয়া হয়।’ এটা নতুন কিছু নয় বলে তিনি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে বিমানকে করপোরেশন থেকে কম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। পরের বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও আজো তা হয়নি। সেই সময় বিমানের জনবল পাঁচ হাজার ৬০০ জন থেকে তিন হাজার ৪০০ জনে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিমানের জনবল ফের ছয়য় হাজারে পৌঁছেছে।



মন্তব্য