kalerkantho


পাল্টে গেল গোলাপের জীবন

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাল্টে গেল গোলাপের জীবন

গোলাপ মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার দোহারের মৈনটের পদ্মাপারে ট্রলার ও স্পিডবোট ঘাটে ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছিলেন প্রতিবন্ধী এ ব্যক্তি; কিন্তু এ কাজ ছাড়তে চাচ্ছিলেন তিনি। তবে নিরুপায় ছিলেন। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েছেন গোলাপ। সেদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম আল-আমিনের পক্ষ থেকে মাহমুদপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সপরিবারে থাকার জন্য ঘর বুঝে পান তিনি। একই সঙ্গে পেয়েছেন টাকা।

ঘর-টাকা পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন গোলাপ। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা অনেক কইরা বলত, বাবা তুমি ভিক্ষা কইরো না তো, সবাই আমারে ভিক্ষুকের মাইয়া কয়। মেয়েটার কথা শুইন্যা কান্দা আইসা পড়ত; কিন্তু অভাবের কারণে অর কথা রাখবার পারতাম না। এহন যেহেতু বাঁচার একটা রাস্তা পাইলাম, আমি আর ভিক্ষা করুম না। ইউএনও স্যার আমারে নতুন কইরা বাঁচবার পথ দেখাইয়া দিল। স্যারের কাছে একটা অটোরিকশা চাইছি। ওই রিকশা নাকি প্রতিবন্ধীরা চালাইব্যার পারে। হেইড্যা পাইলে আমার পরিবারে আর কষ্ট থাকব না। স্যারে আমারে নতুন কইরা বাঁচবার শিখাইল, আল্লায় হেরে ভালো রাখুক।’

গোলাপ আরো বলেন, ‘অভাব-অনটনের সংসারে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছিলাম। নিজের ঠিকানা বলতে কিছু ছিল না। যখন সুস্থ ছিলাম, বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতাম, যা আয় হতো তা দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাতাম; কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় জীবনের সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে যখন কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না তখনই বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেই। মৈনট ঘাটে ভিক্ষা করে কোনোমতে প্রতিদিনের খরচ জোগাড় করতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘ঘরে এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েটা বেশ আপত্তি করতে শুরু করে যেন আমি ভিক্ষা না করি।’

ইউএনও বলেন, “তিনি (গোলাপ) আমাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে চান না। কারণ হিসেবে বলেছেন, ছেলে-মেয়ে বড় হচ্ছে, সমাজ তাদের ‘ছোট চোখে’ দেখে। তাঁর এমন কথার কারণে আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথমে আমি তাঁকে চা-বিস্কুট বিক্রির জন্য টিন-কাঠের একটি দোকান করে দিতে চেয়েছিলাম; কিন্তু তিনি বলেছেন, একটি রিকশার কথা। ভূমি অফিসের সহযোগিতায় তাঁকে আশ্রয়ণে একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।”



মন্তব্য