kalerkantho


জীববিজ্ঞান উৎসবে কৌতূহলী খুদে বিজ্ঞানীরা

শেকৃবি প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঘড়ির কাঁটা সকাল ৮টার ঘরে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী। আর শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত জীববিজ্ঞান উৎসবের ‘এনজাইম’ বন্ধুরা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষি অনুষদ চত্বর ওদের পদচারণে প্রাণবন্ত। ওরা এসেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ আশপাশের জেলা মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। উদ্দেশ্য, দেশের জীববিজ্ঞান প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় আসর ‘প্রাণের টানে পারস্যে’ শীর্ষক জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর জীববিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্বে অংশ নেওয়া।

সকাল সোয়া ৮টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শেকৃবি উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ উৎসবের উদ্বোধন করেন। ‘এনজাইম’রা দিক-নির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রতিযোগীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান। ৯টা ২৬ মিনিটে শুরু হয় এক ঘণ্টার বহুনির্বাচনী পরীক্ষা। পরীক্ষা কেন্দ্রের হলগুলো পরিদর্শন করেন শেকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জামিলুর রহমান, ড. সারোয়ার হোসাইন ও বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় সংসদের অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্যরা।

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। কৌতূহলী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানবিষয়ক নানা প্রশ্নের জবাব নিয়ে মঞ্চে হাজির হন শেকৃবি উপাচার্য ও বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, ড. জামিলুর রহমান, ড. সারোয়ার হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আর এইচ সরকার এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর মাসুদুর রহমান।

পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে উদ্ভিদ জন্মালে তার পাতার রং কেমন হবে? উদ্ভিদের টিস্যু কালচার করা গেলে মানুষের করা যায় না কেন? জোনাকি পোকার জিন মানুষের দেহে স্থাপন করা গেলে কি আলো দেবে?—এমন প্রশ্নমালার পাশাপাশি তাদের অভিযোগ উঠে আসে বিস্তর। বড়দের জন্য গবেষণার সুযোগ থাকলেও ছোটদের জন্য নেই কেন? খুদে গবেষকদের জন্য কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেন এখনো গড়ে তোলা হয়নি—এমন নানা অভিযোগ খুদে গবেষকদের। প্রশ্নগুলোর সহজবোধ্য গোছানো উত্তর দিয়ে ওদের জানার অদম্য আগ্রহকে যেন আরো বাড়িয়ে দেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সেরা তিন প্রশ্নকারীকে বই দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

তিন ক্যাটাগরিতে ২১৭ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে জুনিয়র ক্যাটাগরি থেকে ৪০ জন, সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি থেকে ৮৮ জন ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ৮৯ জন বিজয়ী মনোনীত হয়। বিজয়ীরা পরে ন্যাশনাল পর্বে অংশ নেবে। ন্যাশনালে এমসিকিউ, লিখিত ও ব্যবহারিক পর্ব পেরিয়ে সেরা চারজন ইরানে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান উৎসবে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাবে।



মন্তব্য