kalerkantho


শেষের পথে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারও

আশরাফ-উল-আলম   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শেষের পথে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারও

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার শেষের পথে। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলেই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হবে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারাধীন এ মামলার বিচারকও ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ মামলার বিচারকাজও চলছে রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে। একই আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন গত বৃহস্পতিবার। ওই রায়ে খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

গত ৩০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির মাধ্যমে জিয়া চ্যারিটেবল মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এক দিনেই শুনানি শেষ করে। এরপর আসামিপক্ষে শুনানি চলছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যুক্তিতর্ক শুনানিই বিচারের শেষ ধাপ। এর পরই ঘোষণা করা হয় রায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল কালের কণ্ঠকে জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা শেষের পথে। বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে। এর পরই ঘোষণা করা হবে রায়। জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ করতে দেড় মাস সময় লেগেছিল। এ মামলায়ও একই রকম সময় লাগতে পারে। সে হিসাবে মার্চে বা এপ্রিলে ওই রায় ঘোষণা হতে পারে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ মামলার অভিযোগ গঠন করেন। ২০১৫ সালের ৪ মে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ২০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব এবং বিআইডাব্লিউটিএর সাবেক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। হারিছ চৌধুরী বর্তমানে পলাতক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পরও তিনি ওই ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি হিসেবে থেকেছেন। সেখানে তাঁর পদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। এই ট্রাস্টের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসাটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সোনালী ব্যাংকের শাখায় ট্রাস্টির অনুকূলে অ্যাকাউন্ট খোলেন খালেদা জিয়ার নিজের নামে। ওই অ্যাকাউন্টেও তিনি নিজের পদের নাম গোপন রাখেন। সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি পদ গোপন করে ব্যক্তিগত নামে ট্রাস্টি কার্যক্রম চালিয়ে ট্রাস্টি আইন লঙ্ঘন করেছেন। আবার প্রধানমন্ত্রী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে ট্রাস্টের নামে টাকা সংগ্রহ করেছেন। এই টাকার কোনো উৎস নেই। ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন একক স্বাক্ষরে। আবার খরচও করেছেন। খরচেরও কোনো উৎস নেই। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ট্রাস্টি পরিচালনা করতে গিয়ে অন্যান্য আসামির যোগসাজশে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করে নিজে লাভবান হয়েছেন, অন্য আসামিদেরও অবৈধভাবে লাভবান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।



মন্তব্য