kalerkantho


দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



 দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশনের সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

দুর্নীতি এবং জনগণের অর্থ অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণের টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো রকম অনিয়ম, দুর্নীতি বা অসততা বরদাশত করব না।’ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ে কর্মরতদের দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা আরো বেশি নজরদারি করবেন। সেটাই আমি চাচ্ছি।’

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলের অডিট ভবনে আন্তর্জাতিক সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউট (আইএসএআই)-এর নতুন ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সরকারি অর্থের অপচয়, আত্মসাৎ, জালিয়াতি, চুরি, বিধিবহির্ভূত পরিশোধ, আয়কর ও ভ্যাট আদায় না করা, আইন, বিধি, নির্বাহী আদেশ পালন না করা, সরকারি নিয়মনীতি ও আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ না করা, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করাসহ নানা অনিয়ম উদ্ঘাটনে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডিজিটাইজেশনের পাশাপাশি এর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, যথাযথ নিরাপত্তা না থাকার কারণে রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতি যখনই আমরা গ্রহণ করব, সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার দিকটা কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে। এই পদ্ধতিগুলো যখনই আমরা গ্রহণ করব, তার সঙ্গে সঙ্গে তার ফায়ারওয়াল থাকতে হবে, নিরাপত্তা থাকতে হবে। সাইবার ক্রাইম একটা ক্রাইম, যা অনেক সময় আমাদের অনেক তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। সেখান থেকেও কিভাবে নিরাপত্তাটা দিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সেটা যদি আমরা না করি, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের অর্থ পাচার হয়ে গেল। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতি সেখানে গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু যেভাবে, যে পদ্ধতিতে ফায়ারওয়ালটা করা উচিত ছিল; সেটা কিন্তু তখনো করা হয়নি। যার জন্য এটা করতে পেরেছিল। এ ব্যাপারগুলো ভালোভাবে লক্ষ রাখা দরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিট বিভাগকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গতানুগতিক অডিটের বাইরে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অডিট, পারফরম্যান্স অডিট, আইটি অডিট, পরিবেশবিষয়ক অডিট পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

শিগগিরই অডিট মনিটরিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শুরু হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে এটি সব মন্ত্রণালয়কে সংযুক্ত করবে এবং মানসম্পন্ন অডিট রিপোর্ট যথাসময়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থসচিব মোহাম্মাদ মুসলিম চৌধুরী এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেলারেল মাসুদ আহমেদ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য