kalerkantho


ডাকাতির কবলে প্রবাসী

নরসিংদীতে ৪ পুলিশসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নরসিংদীতে এক প্রবাসীকে বহনকারী গাড়িতে ডাকাতির অভিযোগে চার পুলিশসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত চার পুলিশ হলেন রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন, উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। পাশাপাশি নূর মোহাম্মদ, সাদেক মিয়া নামের দুই ব্যক্তি এবং প্রবাসীকে বহনকারী গাড়িটির (প্রোবক্স) চালক নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার মাঈন উদ্দিন, আবদুল্লাহপুর এলাকার মতিন মিয়া ও হাইরমারা এলাকার মো. সোহেল মিয়া মালয়েশিয়াপ্রবাসী।  তাঁদের মধ্যে সোহেল মিয়া কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে আসার সময় মাঈন উদ্দিন ১০০ গ্রামের দুটি স্বর্ণের বার ও মতি মিয়া ১৫০ গ্রামের একটি স্বর্ণের বার তাঁর কাছে দেন পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।  সোহেল মিয়া গত ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে ভাগিনা মিজান, কাউছার মিয়া, ভাতিজা রিপন মিয়া, পরিচিত একই উপজেলার আবদুল্লাহপুর এলাকার মো. আবদুল্লাহসহ বাড়ি ফিরছিলেন। একপর্যায়ে চালক নুরুজ্জামান মোল্লা মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় কারো কাছে তাঁদের যাতায়াতের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছিলেন। সোহেলের প্রশ্নের জবাবে রায়পুর উপজেলায়ই বাড়ি চালক নুরুজ্জামান জানান, গাড়ির মালিক মোস্তফার সঙ্গে কথা বলছেন। এর কিছু পরে চালক গাড়িটি নরসিংদী সদর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাহেপ্রতাব এলাকার বিএল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে থামায়। এ সময় একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে উপপরিদর্শক সাখাওয়াত ও আজহার আলীসহ চার-পাঁচজন সেখানে আসেন এবং অস্ত্র ও ওয়্যারলেস সেট দেখিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। গাড়িতে অবৈধ মালপত্র রয়েছে বলে সোহেলসহ সবাইকে টেনে নামান। এরপর তাঁদের লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। এভাবে তাঁরা সোহেলের কাছ থেকে ১০০ গ্রামের দুটি স্বর্ণের বার, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, মোবাইল ফোন সেটসহ প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার মালপত্র লুট করে নেন। যাওয়ার সময় তাঁদের গাড়িতে মিজান ও কাউছারকে তুলে সোহেলকে তাঁদের গাড়ি অনুসরণ করতে বলেন। সোহেলদের গাড়ি শহরের পুরানপাড়া এলাকায় পৌঁছলে আহত অবস্থায় মিজান ও কাউছারকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মাইক্রোবাসটি পুনরায় নরসিংদীর দিকে চলে যায়।

প্রবাসী মাঈন উদ্দিনের ভাই মো. শাহজাহান লিখিতভাবে বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে জানান। গোয়েন্দা পুলিশ সিএনজি স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পান এবং রায়পুরা থানার চার পুলিশসহ অন্য তিনজনকে চিহ্নিত করেন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক  রুপন কুমার সরকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তিনজন এবং রায়পুরা থানার দুই এসআই, দুই কনস্টেবলসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেন। পাশাপাশি লুট হওয়া মালপত্রের মধ্যে ১০০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের বার, নগদ ২৯ হাজার ২৫৫ টাকা উদ্ধার করেন। তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তলও উদ্ধার হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুপন কুমার গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া কিছু মাল উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততায় আমরা বিব্রত। এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে পারব না।’


মন্তব্য